জমি আছে ফসল নেই

তানোরে ফসলের ক্ষতি কাটাতে মাছ চাষে দিনবদলের স্বপ্ন কৃষকদের

মো: ইমরান হোসাইন; তানোর, রাজশাহী | প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
তানোরে ফসলের ক্ষতি কাটাতে মাছ চাষে দিনবদলের স্বপ্ন কৃষকদের
রাজশাহীর তানোরে শিবনদ ও বিলকুমারী বিলের নিম্নাঞ্চলে টানা দুই বছর ধরে বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। জমিতে পানি জমে থাকায় একদিকে যেমন ফসল মিলছে না, অন্যদিকে চাষাবাদের খরচ জোগাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে এসব জমিতে পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষের সুযোগ করে দিলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন মৎস্য সংশ্লিষ্ট ও কৃষি বিশ্লেষকরা। উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তরের চৌবাড়িয়া-মালশিরা ব্রিজ থেকে দক্ষিণে চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়নের একতারপুর মৌজা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার নিম্নাঞ্চলে কৃষকের ও সরকারি প্রায় দেড় হাজার হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। চন্ডীপুর, আমশো, জিওল, বিলজোয়ানিয়া, গোকুল, তালন্দ, কামাগাঁ ও মালশিরাসহ বিভিন্ন মৌজার এই বিস্তীর্ণ এলাকা বর্ষায় ডুবে থাকে। আগে বছরে একটি বোরো ফসল হলেও বিগত দুই বছর ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই বোরো ক্ষেত সম্পূর্ণ শিবনদের গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষকরা ঘরে কোনো ফসল তুলতে পারছেন না। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, আশির দশকে যান্ত্রিক সেচ ব্যবস্থা আসার পর অসচেতনভাবে পানি নিষ্কাশনের খাড়ি ও খালগুলো ভরাট করে কৃষি জমি বাড়ানো হয়। বিশেষ করে শিবনদের বাঁধের বুড়ির ডাঁড়া থেকে বুরুজ ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সরকারি খাল ভরাট হয়ে সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বোরো ক্ষেত ডুবে যাচ্ছে। এই সংকট থেকে বাঁচতে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে মৎস্য চাষের দিকে ঝুঁকছেন। চন্ডীপুর মৌজার কৃষক আলম হোসেন জানান, ১২ কাঠা জমিতে মাছ চাষ করে খরচ বাদে তার বছরে ৩০ হাজার টাকা আয় হয়েছে। আবাদি জমিতে পুকুর খননে আইনি জটিলতা থাকলেও জীবন-জীবিকার স্বার্থে এই আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। তাদের মতে, ফসলহীন জমিতে মাছ চাষের অনুমতি দিলে কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের মৎস্য উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। উপজেলার সাধারণ কৃষকরা অবিলম্বে ভরাট হওয়া সরকারি খাল-খাড়ি পুনঃখনন করে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। আর তা সম্ভব না হলে, ডুবে থাকা অনাবাদি জমিতে আইন শিথিল করে মাছ চাষের উপযোগী পরিবেশ তৈরির জোর দাবি জানান তারা। তানোর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাজু চৌধুরী বলেন, ভারী বর্ষণে বিলকুমারী বিলের দু’পাশের জমি ডুবে যাওয়ায় কোনো ফসল হচ্ছে না। এসব জমিতে পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ শুরু করা গেলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেওয়া সম্ভব। এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খাঁন জানান, আইনগতভাবে আবাদি জমিতে পুকুর খননে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে বিলকুমারী বিলের দু’পাশের আবাদি জমি যদি ভারী বর্ষণে স্থায়ীভাবে ডুবে থাকার কারণে চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, তবে কৃষকদের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে