গাইবান্ধায় মাংসের ওজনে পানি কিনে ঠকছেন ক্রেতারা

এফএনএস গাইবান্ধা: | প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩২ এএম
গাইবান্ধায় মাংসের ওজনে পানি কিনে ঠকছেন ক্রেতারা

সীমিত আয়ের সংসারে গরুর মাংস এখন অনেকটাই বিলাসী খাবার। মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের পাতে নিয়মিত জোটে না এক টুকরো মাংসও। অতিথি এলে কিংবা বিশেষ কোনো উপলক্ষ ছাড়া গরুর মাংস কেনা হয়ে ওঠে না অনেক পরিবারের। অথচ সেই মাংস কিনতে গিয়েও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা। অভিযোগ উঠেছে, মাংসের ওজন বাড়াতে পানি মেশানো হচ্ছে। চর্বি ও ফুসফুস পানিতে ভিজিয়ে রেখে বিক্রি, ওজন পরিমাপে কারসাজি এবং ভালো মাংসের সঙ্গে নিম্নমানের মাংস মিশিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।

গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। ক্রেতাদের অভিযোগ, মাংসের সঙ্গে পানি ও অতিরিক্ত চর্বি মিশিয়ে ওজন বাড়ানো হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ক্রেতারা প্রকৃত মাংসের তুলনায় কম পণ্য পাচ্ছেন, অন্যদিকে স্বাদ ও গুণগত মান থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা। ক্রেতাদের অভিযোগ অনুযায়ী, এক কেজি মাংসে প্রায় ১০০ গ্রাম অতিরিক্ত পানি থাকলে ওই পানির দামই দাঁড়ায় ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। অর্থাৎ মাংসের দামে পানি কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। 

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বালুয়া বাজার থেকে মাংস কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এক ক্রেতা। আশরাফ আলী নামের ঐ ক্রেতা বলেন, ‘এক কেজি মাংসের মধ্যে শক্ত মাংস থাকে প্রায় ৪০০ গ্রাম। বাকি অংশে পানি মেশানো চর্বি ও ফুসফুস থাকে। ওজন মাপার স্কেলের ওপর চর্বিযুক্ত একটি প্লাস্টিকের বালতি রাখা হয়। এতে পানি ও অন্যান্য অংশের কারণে প্রকৃত মাংসের পরিমাণ আরও কমে যায়।’

পলাশবাড়ী উপজেলার অন্যতম বৃহৎ মাংসের বাজার হিসেবে পরিচিত গোডাউন বাজারে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রতিদিন অন্তত ১৫টি পশু জবাই করা হয়। গভীর রাতে পশু জবাইয়ের পর ভোর থেকেই শুরু হয় মাংস বিক্রি। পাইকারি এই বাজারেও মাংসের ওজন বাড়াতে পানি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন বাজারে মাংসের দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, পশুর চর্বি ও ফুসফুস পানিভর্তি বালতিতে ডুবিয়ে রাখা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব উপাদান মাংসের সঙ্গে বিক্রি করে ওজন বাড়ানো হচ্ছে। ক্রেতাদের কেউ কেউ বিষয়টি বুঝতে পারলেও বিকল্প দোকান না থাকায় বাধ্য হয়ে মাংস কিনছেন। তাঁদের অভিযোগ, একাধিক দোকানে একই ধরনের অনিয়ম থাকায় পছন্দমতো দোকান বেছে নেওয়ার সুযোগও সীমিত। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একটি মাংসের দোকানের এক কর্মচারী বলেন, ‘গরু কিনে ব্যবসায়ীরা সব সময় আশানুরূপ লাভ করতে পারেন না। মহাজনরা মাংসের ওজন বাড়াতে পানি ব্যবহার করেন। এতে গরুপ্রতি সাত থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত লাভ হয় বলে তাঁরা দাবি করেন।’

সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আফরোজা লুপু জানান " গরুর মাংসের উচ্চমূল্যের কারণে যখন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের খাদ্যতালিকা থেকে মাংস ক্রমেই বাদ পড়ছে, তখন সেই মাংস কিনতে গিয়েও প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করছে। বাজারে কার্যকর নজরদারি না থাকলে এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতি ও নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।" এ বিষয়ে জানতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের গাইবান্ধা জেলার সহকারী পরিচালক পরেশ চন্দ্র বর্মনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন " আমাদের কাছে কোন ভোক্তা এখন পর্যন্ত এ ধরনের অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে শীঘ্রই এসব প্রতারণা বন্ধে অভিযান শুরু করা হবে "

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে