হাটহাজারীতে

বৌদ্ধদের পবিত্র দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব শনিবার থেকে শুরু

এফএনএস (কেশব কুমার বড়ুয়া; হাটহাজারী, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
বৌদ্ধদের পবিত্র দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব শনিবার থেকে শুরু

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বৌদ্ধদের মাসব্যাপী  দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব  আগামীকাল শনিবার  (৩১ অক্টোবর) থেকে শুরু  হবে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা মহাকারুনিক গৌতম বুদ্ধ তাঁর জীবতকালে প্রতি বছর আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত ভিক্ষু সংঘের পবিত্র বর্ষাবাসে বিহার তথা বৌদ্ধ মন্দিরে অবস্থান করে শীল সমাধী প্রজ্ঞার অনুশীলন, ধর্ম বিনয় শিক্ষা ও ধ্যান সাধনা করে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার নিয়ম প্রবর্তন করেন। বর্ষার সময় বৃষ্টি বাদলের দিনে বৌদ্ধ ধর্ম গুরু তথা ভিক্ষু সংঘ বিহার/ মন্দিরে বাহিরে গেলে তাঁদের পরিধেয় বৃষ্টিতে ভিজে যেতে পারে। সেই সময় রাস্তা ঘাট কাদা মিশ্রিত অবস্থায় ভিক্ষুদের চলাচল কস্টকর হবে। তাই তিনি (বুদ্ধ) তিনমাসব্যাপী  ভিক্ষুদের  বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান ও গৃহী সংঘের আমাবস্যা, পূর্ণিমা ও অস্টমী তিথিতে  উপসতশীল গ্রহন ও পালনের  নিয়ম প্রবর্তন করেন। যেহেতু ভিক্ষুরা বর্ষার সময়  বিহার / মন্দিরে বাহিরে যাওয়া কস্টকর সেহেতু গৃহীরা (নারী / পুরুষ) মন্দিরে এসে নিজেদের ব্রতকর্ম করার নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন গৌতম বুদ্ধ। আর আশ্বিনী পূর্ণিমা তথা প্রবারনা পূর্ণিমার পরদিন থেকে বৌদ্ধদের পবিত্র দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসবের প্রবর্তন করেছিন গৌতম বুদ্ধ তাঁর জীবতদশায়। তারই ধারা বাহিকতায় প্রবারনা পূর্ণিমার পরদিন থেকে  কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত দীর্ঘ একমাস ব্যাপী গৃহীদের বৌদ্ধ ধর্মের নীতি আদর্শ শিক্ষা দানের জন্য ভিক্ষু সংঘ প্রত্যেক বিহারে দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব গিয়ে ধর্মের নীতি আদর্শ, শীল বিনয় শিক্ষা দিয়ে থাকেন। যেসব বিহার/ তথা মন্দিরে তিনমাস ভিক্ষু সংঘ বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান করেন সেইসব বিহারে এই দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই উৎসবের দিন ভিক্ষু সংঘকে আনুষ্ঠানিক ভাবে  এক বছরের জন্য বিহারের আওতাধীন দায়ক/ দায়িকাদের পক্ষ তাঁদের পরিধেয় কাশায় বস্ত্র / চীবর দান করা হয়।  বুদ্ধের জীবিতকালে এই চীবর দানোৎসবে ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র দান করতে গৃহীদের সীমাহীন কস্ট শিকার করতে হত। তখন অবশ্য বর্তমান সময়ের মত এত আধুনিক ও উন্নত ব্যবস্থা ছিল না। সেই সময় চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা করে, সেই সুতা থেকে কাপড় তৈরি করে, সেই কাপড় সেলাই রং করে ভিক্ষু সংঘকে দান করার রেওয়াজ ছিল। অবশ্য বর্তমান সময় পাহাড়ি উপজাতিয় জনগোষ্ঠী বুদ্ধের সময়কার নিয়ম অনুসরন করে সেই ২৪ ঘন্টায় তৈরি করা ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র দান করে থাকে। ইদানীং সমতলে বসবাসকারী বৌদ্ধরা কোন কোন বিহারে উপজাতিয় জনগোষ্ঠীকে  এনে রাত জেগে  কাপড় তৈরি করে ভিক্ষুদের চীবর দান করে থাকে। চব্বিশ ঘণ্টা কঠিন পরিশ্রম করে ভিক্ষুদের পরিধেয় দান করা হয় বলে এইদানকে কঠিন চীবর দান বলা হয়ে থাকে। একাগ্র চিত্ত ও   মনে লোভ দ্বেষ  মোহ  হিংসা বিদ্বেষ পরিহার করে মৈত্রী, করুনা, মোদিতা, উপেক্ষা নীতি হৃদয়ে ধারন করে চীবর দান করতে পারলে মহাপূণ্যের অধিকারী হওয়া যায়। 

আগামী কাল  শনিবার (৩ ১অক্টোবর)   হাটহাজারী পৌরসভার  আগাচ কাল শনিবার ৩১ অক্টোবর রুদ্রপুর ধর্মরত্ন বিহারে, ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার মাধ্যম মার্দাশা সার্বজনীন শান্তি নিকেতন বৌদ্ধ বিহারে   ৬ নভেম্বর শুক্রবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিশ্বশান্তি প্যাগোডায়, ৭ নভেম্বর  শনিবার জোবরা সুগত বিহারে, ১২ নভেম্বর  বৃহস্পতিবার মির্জাপুর গৌতমাশ্রম বিহারে, ১৩ নভেম্বর  শুক্রবার মির্জাপুর শান্তিধাম বিহারে ১৪ নভেম্বর  শনিবার উদালিয়া শান্তি নিকেতন বৌদ্ধ বিহার ও গুমানমর্দ্দনে আরিয়া ওয়াংছা  বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র বৌদ্ধ বিহারে  ১৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বালুখালী জগৎ জ্যোতি বৌদ্ধ বিহারে,  ২০ নভেম্বর শুক্রবার গুমানমর্দ্দনে শান্তি বিহারে, ২১ নভেম্বর  শনিবার গুমানমর্দ্দনে ধর্মচক্র বিহারে, ২৩ নভেম্বর সোমবার গুমানমর্দ্দনে সার্বজনীন নালান্দা বৌদ্ধ বিহারে দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হবে জানিয়েছেন হাটহাজারী বৌদ্ধ কল্যান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লায়ন অনুপম বড়ুয়া।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে