মহাদেবপুরে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ শিক্ষক বিরুদ্ধে

এফএনএস (রওশন জাহান; মহাদেবপুর, নওগাঁ) :
| আপডেট: ২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম | প্রকাশ: ২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
মহাদেবপুরে  ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ শিক্ষক বিরুদ্ধে

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের উত্তরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীদেরকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এধরনের গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ বার বার প্রমাণিত হলেও শিক্ষকদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার পক্ষ নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নিরুৎসাহীত করে আসছেন। কিন্তু মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বপ্রণোদিত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগে অভিভাবকমহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর পিতা ও মাতা অভিযোগ করেন যে, গত কয়েক মাস ধরে শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম তার মেয়েকে ব্যাড টাচ করে আসছে। বার বার তারা বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানালেও তিনি কোনই ব্যবস্থা নেননি। স্থানীয় ইউপি মেম্বারদের সহযোগিতায় এব্যাপারে তিন দফা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ওই শিক্ষককে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেয়া থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এখনও তিনি পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছেন। বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও একই অভিযোগ করেছেন। তারা এনিয়ে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনও করেছেন। সবশেষ কমপক্ষে দশজন শিক্ষার্থী মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে তার সাথে দেখা করে এবিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ইউএনও সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেন।

সোমবার দুপুরে ওই বিদ্যালয়ে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে হৈ চৈ করলে তাদের গায়ে হাত দিয়ে থামাতেন। এব্যাপারে শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে স্থানীয় অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে তাকে অন্যত্র বদলী করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল আবেদীন বর্ষণ বলেন, পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেয়া থেকে ওই শিক্ষককে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও অন্য দুজন শিক্ষক ছুটিতে থাকায় জাহাঙ্গীর আলমকে ক্লাস নিতে হয়েছে। তাকে বদলীর জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানানো হলে এখন তাকে বদলী করা যাবেনা বলে শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়ে দেন। বিকেলে বিষয়টি জানতে গেলে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা এস, এম, আবু রায়হান বলেন, কাগজে কলমে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত নন। শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেছেন। তিনিই এবিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন। তবে রোববার ইউএনওর তদন্তের সময় তাঁর সাথে উত্তরগ্রাম ক্লাস্টারের সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা পবিত্র কুমারও গিয়েছিলেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে স্বাভাবিক বদলী করা সম্ভব নয় একথা বলেছেন তিনি।

সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা পবিত্র কুমার বলেন, স্থানীয় অভিভাবক ও অভিযুক্ত শিক্ষকের মধ্যে আপস হয়েছে। এসংক্রান্ত একটি আপসনামা তাদেরকে দেয়া হয়েছে।

এসময় শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকেন। স্বরসতিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাপদক বাণী ইসরাইল সাংবাদিকদের জুতা পায়ে ওই কার্যালয়ে প্রবেশে বিরুপ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা অফিসারকে লিখিত অভিযোগ না দেয়া ও অভিযোগকারিদের সাথে আপসের পর আর কোন কিছু করা উচিৎ নয়।

জানতে চাইলে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ বলেন, দুসপ্তাহ আগে উত্তরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী তার অফিসে এসে সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীদেরকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ দেন। অফিশিয়াল তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হয়। রোববার ওই শিক্ষক একটি আপসনামা দাখিল করে। কিন্তু এ ধরনের ফৌজদারি অপরাধের বিষয় আপসযোগ্য না হওয়ায় তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান। এবিষয়ে তিনি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর পত্র প্রেরণ করবেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে