পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার অন্যতম একটি জনবহুল ও ব্যবসাভিত্তিক এলাকা হলো ফকিরগঞ্জ বাজার। প্রতিদিন শত শত ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে মুখর থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ আকস্মিক কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটে গেলে তা নেভানোর জন্য বাজারে নেই পর্যাপ্ত বা কার্যকর কোনো পানির ব্যবস্থা। ফলে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফকিরগঞ্জ বাজারে কাপড়, কসমেটিকস, হার্ডওয়্যার, মুদিখানা, ইলেকট্রনিক্স এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় শত শত দোকান রয়েছে। বাজারের অধিকাংশ অবকাঠামো পুরোনো এবং দোকানগুলো বেশ ঘনবসতিপূর্ণভাবে গড়ে উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাজারে কোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর জন্য যে পরিমাণ পানির প্রয়োজন, তার ছিটেফোঁটাও সেখানে নেই। বাজারে কোনো গভীর নলকূপ, রিজার্ভ ট্যাংক কিংবা জলাশয় (পুকুর বা ডোবা) না থাকায় সামান্য আগুন লাগলেও তা দ্রুত ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের ন্যূনতম কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজারের একজন প্রবীণ ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের এই বাজারে কোটি কোটি টাকার মালামাল কেনাবেচা হয়। অথচ নিরাপত্তা বলতে কিছুই নেই। যদি আল্লাহর ওয়াস্তে কোনো দিন বড় কোনো আগুন লাগে, তবে ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই আমাদের সব শেষ হয়ে যাবে। কারণ আগুন নেভানোর মতো এক ফোঁটা পানিও এখানে নেই।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নিরসনে বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে নলকূপ স্থাপন বা পানির রিজার্ভ ট্যাংক তৈরির দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
ফকিরগঞ্জ বাজারের অগ্নিকাণ্ডের স্থায়ী ঝুঁকি কমাতে এবং ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী:
১.বাজারের নির্দিষ্ট কয়েকটি পয়েন্টে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হোক।
২. জরুরি আগুন নেভানোর জন্য পর্যাপ্ত পানির রিজার্ভ ট্যাংক বা হাইড্র্যান্টের ব্যবস্থা করা।
৩. ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সহজে চলাচলের জন্য বাজারের রাস্তাগুলো প্রশস্ত ও পরিষ্কার রাখা।
ফকিরগঞ্জ বাজারের এই মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।