দশ মাসের অভিযানে ৪০৩ মামলায় গ্রেফতার ৩৯৪ জন অপরাধী

এফএনএস (মোঃ রিয়াছাদ আলী; কয়রা, খুলনা) : | প্রকাশ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
দশ মাসের অভিযানে ৪০৩ মামলায় গ্রেফতার ৩৯৪ জন অপরাধী

বিশ্বের ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের বনজ সম্পদ রক্ষায়  বনরক্ষীদের নজরদারি ও প্রতিনিয়ত অভিযানের ফলে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগ। এই বিভাগের অধীন বনে অপরাধের মাত্রা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। চলতি বছরের ১০ মাসে পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে বিভিন্ন সাঁড়াশি অভিযানে ৪০৩ মামলায় ৩৯৪ জন বর্ণ অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ২৮৯২ মিটার হরিণ ধরার ফাঁদ, ৫২২ কে.জি. হরিণের মাংস এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ মৎস্য ও কাঁকড়া আহরণের সরঞ্জাম। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী স্বীকার চিরতরে বন্ধ করতে সুন্দরবন পশ্চিম বর্ণ বিভাগ হরিণসহ বন্যপ্রাণী স্বীকার ও বর্ণ অপরাধে জড়িত ১৩৫ জনের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করে তাদেরকে নজরদারিকে রাখা হয়েছে। এতে করে বর্ণ অপরাধ বিগত দিনের তুলনায় অনেক কমে আসছে।

বর্ণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,চলতি বছরের জানুয়ারি হতে অক্টোবর ১০ মাসের মধ্যে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বনরক্ষীরা বনের গহীনে হেঁটে ও জলপথে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।  এই ১০ মাসে বর্ণ অপরাধের দায়ে খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে মোট ৪০৩ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৩৯৬ জনকে  হাতেনাতে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া পলাতক আসামি রয়েছে ৩৪ জন। খুলনা ও সাতক্ষীরা  রেঞ্জের অধীন বনের বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে গৎ ১০ মাসে জব্দকৃত সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে ২৯ টি ট্রলার, ৪০৫ টি নৌকা, ৪৮৩টি অবৈধ কাঁকড়া ধরার ( আটন) ফাঁদ, ৯৫৩২ মিটার দৌনদড়ি,  ৩৭৬০ কে.জি. মাছ এবং ৪১৪২ কে.জি. অবৈধভাবে আহরিত কাঁকড়া। এছাড়া সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারি চক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় দস্যু ও অসাধু চক্রের কাছ থেকে ১৮৮ বোতল মাছ ধরার অবৈধ কীটনাশক । জব্দ করা হয়েছে ১২৭৩  কে.জি. মধু। এ দিকে খুলনা রেঞ্জের সহকারী বর্ণ সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ সাজমিনুল ইসলাম যোগদান করেই বিভাগীয় বর্ণ কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমানের পরামর্শে হরিণ ও বন্যপ্রানী স্বীকার সহ বিষ প্রয়োগে মাছ স্বীকার প্রতিরোধে স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির স্টাফদের কঠোর নির্দশনা প্রদান করেন। তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন অভিযানে আটক করা অবৈধ জাল, নৌকা, আটন সহ এসকল বর্ণ অপরাধীদের। সে ক্ষেত্রে খুলনা রেঞ্জে অপরাধ প্রবনতা কমে এসেছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা নিজেই অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীতের আটক করতে সক্ষম হয়েছে।  জনবল সংকট, আধুনিক সুযোগ সু্বধিা বৃদ্ধি করা গেলে সুন্দরবন সংরক্ষণে আরও ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন বর্ণ প্রহরীরা। সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বর্ণ সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শাহিনুর ইসলাম জানান, বনরক্ষীরা চরম ঝুঁকি ও কষ্ট মাথায় নিয়ে দুর্গম বনে পায়ে হেঁটে, নদীতে নৌযান চালিয়ে নিয়মিত টহল দেওয়ায় বর্ণ অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া ফুট পেট্রোলিং, আধুনিক প্রযুক্তি ড্রোন উড়িয়ে অপরাধী শনাক্ত, সচেতনতামূলক কার্যক্রমে বর্ণ অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বর্ণ কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, বিশাল আয়তনের সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় বর্ণ বিভাগের লোকজন সবার্ত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্ণ কর্মীদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা দরকার। অল্প সংখ্যক জনবল দিয়ে এত বড় সুন্দরবন রক্ষা করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। এজন্য সকলের সহযোগিতায় সুন্দরবনের অপরাধ প্রবনতা বিগত দিনের তুলনায় অনেক কমে এসেছে বলে জানান তিনি।  



আপনার জেলার সংবাদ পড়তে