ঈদ-উল ফিতরের উৎসবকে ঘিরে টাঙ্গাইলে যমুনা সেতুর পূর্ব পাড় যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্রমন পিপাসুদের ভিড় দেখা গেছে। যমুনার সৌন্দর্য্য, সূর্যাস্ত ও যমুনা সেতু দেখার জন্য দর্শনার্থীরা ভিড় জমিয়েছেন। এছাড়াও টাঙ্গাইলের অন্যন্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও ভিড় লক্ষ করা গেছে। পরিবার পরিজন নিয়ে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। তবে অন্য সময়ের তুলনায় এবার দর্শনার্থীদের ভিড় কম লক্ষ করা গেছে। বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে দর্শনীয়স্থানগুলো। ঈদের চতুর্থ দিন দিন বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যমুনা সেতু ও যমুনা পাড়ে ঘুরতে এসেছেন হাজারো দর্শনার্থী। লেগুনা, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে সেতু পূর্ব এলাকায় ঘুরেছেন তারা।
এদিকে যমুনা সেতুর পাশেই সদ্য নির্মিত উদ্বোধন হওয়া ‘যমুনা রেল সেতু। অনেকেই রেলসতুতেও দেখতে ভিড় করেছন। এছাড়া জেলার মহেড়া জমিদার বাড়ি, টাঙ্গাইল রেলস্টেশন ডিসি লেক ও এসর্পি পার্কে ভিড় লক্ষ করা গেছে।
সরেজমিনে যমুনা সেতুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা নৌকায় চড়ে যমুনার সৌন্দর্য্য উপভোগ করছেন। যমুনা ও রেল সেতুর নিচ দিয়ে চলন্ত নৌকায় বেড়ানো যেন আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের। এতে নদীতে ঘুরতে জনপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা করে। ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়ানোর জন্য যমুনা নদীর পাড় খুবই সুন্দর। বিশেষ করে সূর্যাস্ত দেখতে অন্যরকম লাগে। আবার ঈচ্ছে করলেই সেতু কাছ থেকে দেখতে পারছি। সব মিলিয়ে আমাদের অনেক ভালো লাগছে। সেতুর পার এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলার দাবি করছি।
নৌকারা চালকরা বলেন, যমুনা ব্রীজের নিচ দিয়ে ঘুরে আসতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগে। জনপ্রতি ৫০ টাকা নেয়া হয়। স্বাভাবিক সময়ে তেমন লোকজন হয় না। তবে ঈদের ৪ থেকে ৫ দিন দর্শনার্থীদের ঢল নামে। এতে আমাদের আয় রোজ ভালই হয়। ঘুরতে আসা শিশুরা বলে, বাবা মায়ের সাথে ঘুরতে এসেছি। ঘুরে খুব ভালো লাগছে। নৌকায় উঠে আমাদের বেশি ভালো লেগেছে।
টাঙ্গাইল শহর থেকে আসা সৈয়ক বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। যমুনা সেতু ও রেল সেতুর নিচ থেকে ঘুরে আসলাম। সব মিলেয়ে ভালো লেগেছে। পরিবেশ ও আবহাওয়া ভালো থাকায় ঘুরে আনন্দ পেয়েছি। জাহিদ নামের এক দর্শনার্থী বলেন, যমুনা সেতু ও রেল সেতু এক সাথে হওয়ায় অনেক দর্শনার্থীই ঘুরতে আসছেন। বন্ধুদের সাথে আমিও ঘুরতে এসেছি। ঘুরে খুব ভালো লাগছে।
দর্শনার্থী সবুজ বলেন, ঈদের ছুটিতে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি। সব চেয়ে বেশি ভালো লেগেছে যমুনা নদীর পার। রাস্তায় যানজটের কারণে বিরম্বনায় পড়তে হয়েছিলো। কিন্ত সেতুতে আসার পর খুবই ভালো লাগছে। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। টহল পুলিশ ও মোবাইল টিম পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি করছেন।