বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন শুরু সোমবার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫, ০৭:১৪ পিএম
বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন শুরু সোমবার

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে শুরু হচ্ছে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৫তম সীমান্ত সম্মেলন। নয়াদিল্লিতে চার দিনব্যাপী চলা এই সম্মেলনে দুই দেশের সীমান্তবর্তী নানা জটিলতা ও নিরাপত্তা ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এই বিশাল সীমান্ত এলাকা জুড়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ এবং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার সংখ্যা বেড়েছে, যা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালকের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে উভয় পক্ষই সীমান্তে সংঘটিত নানা অপরাধ দমন এবং সহযোগিতার উন্নয়নে গুরুত্ব দেবে। বিশেষ করে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলো এবারের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে:

- সীমান্ত হত্যা রোধ ও নিরস্ত্র নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
- অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানবপাচার প্রতিরোধে সমন্বিত ব্যবস্থা।
- সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে বেআইনি অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ।
- সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানির প্রবাহ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের যৌথ পরিকল্পনা।
- আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান।
- দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে ‘সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন।

সম্মেলনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে, এবারের আলোচনায় বাংলাদেশ তার অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিএসএফের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তের ভেতরে বিএসএফের প্রবেশ এবং নিরীহ কৃষকদের হয়রানির বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হবে।

ভারতের বিএসএফ পক্ষ থেকেও সম্মেলন নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে। বিএসএফের মহাপরিচালক দলজিৎ সিং চৌধুরী জানিয়েছেন, “সীমান্ত সুরক্ষা ও অবৈধ কার্যক্রম দমনে দুই বাহিনীর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।” ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এবারের সম্মেলনে বিএসএফ মূলত সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোকপাত করবে।

এই সম্মেলন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও সুসংহত সীমান্ত নীতির ভিত্তি রচিত হতে পারে।

সীমান্ত হত্যা, চোরাচালান ও নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান পৃথক হলেও, এই সম্মেলন উভয় দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। কূটনৈতিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে সীমান্ত সমস্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এবার দেখার বিষয়, আলোচনার এই ইতিবাচক ধারা বাস্তবায়নে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে