সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার হাড়ীভাঙ্গা মৌজায় ৫৭ বছরের ভোগদখলীয় পৈত্রিক ও ডিডকৃত জমিতে মৎস্য ঘের জবর দখল ও মাছ লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানাগেছে।
উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ভুট্টোর বড় ভাই বিএনপি নেতা আবু সাইদ (শাহিন) সাংবাদিকদের জানান, হাড়িভাঙ্গা মৌজায় বিআরএস ৪৪৫, ৪৪৯ ও ৭৭৫ খতিয়ানে তাদের পৈত্রিক ১০.৭৬ একর জমি রয়েছে। ১৯৬৮ সাল থেকে তারা বংশ পরম্পরায় জমি ভোগ দখল করে আসছেন। উক্ত জমির মধ্যে ১.৩৮ একর জমি হাড়িভাঙ্গার তারাপদ গং, মাজেদ গং ও শ্রীউলার মোস্তফা গংদের নামে রেকর্ড হয়েছে। সহকারী জজ আদালত সাতক্ষীরায় ১৫৮৭ নং মামলার রায়ে ১৫/৫/৯৮ তাং বিবাদীদের বিপক্ষে (অর্থাৎ তাদের পক্ষে) চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হয়। বিবাদীরা অতিঃ জেলা প্রশাসক বরাবর ২৬৬ নং মামলা করলে ১৩/২/২০০৫ তাং নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়। এছাড়া ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ১৪৪৩ নং মামলা করলে ১৬/৪/২৫ তাং নজরুল ইসলাম গংদের পক্ষে ২.১১ একর জমি রায় প্রাপ্ত হয়। বাকী পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমির বিচার চলমান রয়েছে। আবু সাইদ শাহিন জানান, তিনি নিজে এবং তারাপদ গং ও জামাল সরদার গং রায় প্রাপ্ত ও রেকর্ডীয় ৩.৪৯ একর এবং ১১৭ জন শরীকের নিকট থেকে ডিড নেয়া ৭.২৭ একর সম্পত্তি তিনটি সমান অংশে ভাগ করে পৃথক পৃথক মৎস্য ঘের করে ভোগদখল করে আসছেন। গত ২০ মে রাত্র ১০ টার দিকে বিএনপি নেতা আরশাদের ছেলে তুহিন, আবদিলের ছেলে বাদশা, ইয়াকুবের ছেলে ইয়াছিনসহ সালাম ও ছলেমান দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার (আবু সাইদ শাহিনের) ঘেরে অনাধিকার প্রবেশ করে পাটা তছনছ ও মাছ ধরে লুটপাট করতে থাকে। মালিকপক্ষ ও কর্মচারীদেরকে জীবন নাশের হুমকী দিয়ে ঘের থেকে বের করে দেয়া হয়। সেই থেকে তারা ঘেরে জবর দখল ও মাছ ধরে লুটপাট করে আসছে। ঘেরে কয়েক লক্ষ টাকার বাগদা, হরিনা চিংড়ী ও অন্যান্য মাছ রয়েছে। ইতিমধ্যে তারা অনুমান লক্ষাধিক টাকার মাছ ধরে নিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, এব্যাপারে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে জানান হয়েছে। কিন্তু তারা বহাল তবিয়তে অবৈধ দখলে থোকে লুটপাট ও হুমকী ধামকী দিয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।