কেন আমাদের ভুতুড়ে মামলায় বারবার রিমান্ডে নিচ্ছেন, পিপিকে শাজাহান খানের প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৩ জুন, ২০২৫, ০৭:০৪ পিএম
কেন আমাদের ভুতুড়ে মামলায় বারবার রিমান্ডে নিচ্ছেন, পিপিকে শাজাহান খানের প্রশ্ন

রাজধানীর ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় সাজেদুর রহমান ওমর হত্যা মামলায় সোমবার (২৩ জুন) সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত দুই দিন মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শুনানির সময় শাজাহান খান আদালতে মামলাগুলোকে ‘ভুতুড়ে মামলা’ উল্লেখ করে, বারবার রিমান্ডে নেওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন।

শাজাহান খান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকীর উদ্দেশে বলেন, “বিজ্ঞ পিপি সাহেব, উনি বিএনপির বড় নেতা। কেন আমাদের ভুতুড়ে মামলায় বারবার রিমান্ডে নিচ্ছেন?” পিপি ওমর ফারুক ফারুকী জবাবে জানান, তারা সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় নীতিনির্ধারণী বৈঠক করে আন্দোলন দমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মামলা দায়ের করিনি, ভুক্তভোগীদের আত্মীয়স্বজন করেছেন। আমরা শুধু বিচারে সহযোগিতা করছি।’

শাজাহান খানের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করলে, আদালত শুনানি শেষে শাজাহান খান, আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েও শাজাহান খান মজার ছলে বলেন, “তোমরা কেমন আছো?” সাংবাদিকরা ভালো আছি জানালে তিনি বলেন, “আমি ভালো আছি। এক হাতে তালি বাজে না। যারা মব সৃষ্টি করে মানুষ হত্যা করেছে, তাদেরও একদিন বিচার হবে।”

আদালতে হাজিরার সময় তাদের হাতে হ্যান্ডকাফ, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও মাথায় হেলমেট পরানো ছিল। এরপর আদালতে এ সরঞ্জাম খুলে দেয়া হয়। শাজাহান খান ও আনিসুল হক একে অপরের সঙ্গে কথা বলছিলেন, কিন্তু সালমান এফ রহমান চুপচাপ ছিলেন।

সাজেদুর রহমান ওমর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ২১ জুলাইয়ের। ওইদিন যাত্রাবাড়ীর কাজলা ফুটওভার ব্রিজের নিচে ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন সাজেদুর রহমান। বিকেলে হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ আগস্ট তিনি মারা যান। ৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।

এ ছাড়া যাত্রাবাড়ীতে রিটন উদ্দিন ও রাসেলের হত্যাকাণ্ড, পল্টনে গণঅধিকার পরিষদের কর্মী বদরুল ইসলাম সায়মনকে হত্যাচেষ্টা এবং অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের মামলায় আরও বেশ কয়েকজনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বেশ কয়েকজনের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। মামলায় সাবেক মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে।

শাজাহান খানসহ আসামিরা মামলাগুলোকে ‘ভুতুড়ে’ বলে বর্ণনা করছেন এবং বারবার রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ৭৮ বছর বয়সী শাজাহান খান শারীরিকভাবে অসুস্থ অবস্থাও আদালতে তুলে ধরেন। অপরদিকে, পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মামলাগুলো ভুক্তভোগীদের আত্মীয়স্বজন করেছেন এবং তাদের ওপর দৃষ্টিপাত করেই তদন্ত ও বিচার চলছে।

আদালত মামলাগুলো সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং আইনগত কারণে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে