ফ্লাইট রেস্ট্রিকশন জোনে অবৈধ ৫২৫ ভবন: রাজউককে চিঠি দিয়েও কাজ হয়নি, বলছে বেবিচক

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৭ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০২ পিএম
ফ্লাইট রেস্ট্রিকশন জোনে অবৈধ ৫২৫ ভবন: রাজউককে চিঠি দিয়েও কাজ হয়নি, বলছে বেবিচক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরের আশপাশে, অর্থাৎ ফ্লাইট রেস্ট্রিকশন জোনে, বিগত এক দশকে গড়ে উঠেছে অন্তত ৫২৫টি বহুতল ভবন—যেগুলোর কোনোটিই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) থেকে অনুমোদন নেয়নি। অথচ এমন এলাকায় উঁচু ভবন নির্মাণ দেশের আকাশপথ নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট), রাজধানীর কুর্মিটোলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানান বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। তিনি বলেন, “অননুমোদিত এসব ভবন অপসারণের এখতিয়ার বেবিচকের নেই। এজন্য আমরা রাজউককে একের পর এক চিঠি দিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ভবন কেবল যাত্রাবিমানের নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলে না, বরং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। কিছুদিন আগেই (২১ জুলাই) রাজধানীর দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে একটি বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়, যা জনমনে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। ফলে উঁচু ভবনের অনুমোদন ও বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, মাইলস্টোন স্কুলের আশেপাশে কোনো অবৈধ বহুতল ভবন নেই। সেখানে সর্বোচ্চ অনুমোদিত উচ্চতা ১৫০ ফুট, আর বাস্তবে সর্বোচ্চ ভবনটি ১৩৫ ফুট উচ্চতার। সংবাদ সম্মেলনে বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. নূর-ই-আলম এই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, “ওই এলাকায় সব ভবনই অনুমোদিত সীমার মধ্যে রয়েছে।”

প্রশিক্ষণ বিমান সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো ঢাকার আকাশে প্রশিক্ষণ চালায় না। শুধু শাহজালালের রানওয়ে ব্যবহার করে তারা উড্ডয়ন ও অবতরণ করে। তবে, এর বাইরেও যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে, সেটিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, এখনও উদ্বোধনের নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারিত হয়নি। তবে কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে এবং জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে অপারেশন-সংক্রান্ত আলোচনা চলছে। সমঝোতা হলে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে পরিচালনা কাঠামো নিশ্চিত করা হবে।

এই প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট যে, দেশের প্রধান বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে নীতিগত জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং দায়সারা মনোভাব যদি চলতেই থাকে, তবে ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়বে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে