আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন হবে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১১ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:৫৩ পিএম
আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন হবে: তারেক রহমান

নওগাঁ কনভেনশন সেন্টারে জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কারণে আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন হবে। তিনি বলেন, “স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর অনেকেই ভাবছিলেন যে প্রতিপক্ষ মাঠে নেই, তাই নির্বাচন সহজ হবে, কিন্তু তা হবে না।”

তিনি আরো জানান, এক বছর আগে থেকেই বিভিন্ন অদৃশ্য শক্তি ষড়যন্ত্র করছে, যা এখন স্পষ্ট। তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সকল সদস্য ঐক্যবদ্ধ থাকলে এই সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আগামী নির্বাচনে সফল হওয়া সম্ভব হবে।

বিএনপির ভাবমূর্তি রক্ষা এবং দলের ৩১ দফার মেরামতি দাবি নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কাউকে ছোট করতে চাই না, সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। আমাদের ৩১ দফার মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রকে জনগণের মতো করে গড়ার সকল পরিকল্পনা। যা বর্তমান সরকারের ঐকমত্য কমিশনের বক্তব্যের সঙ্গেও মিল রয়েছে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত সময় অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণ বিএনপিকে নির্বাচিত করবে। তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণ যেমন চাইবে, দেশের সরকারও সেভাবে পরিচালিত হবে।

নওগাঁ জেলা বিএনপির সম্মেলনে তিনি দলের সঠিক পরিচালনার জন্য সক্ষম নেতৃত্ব নির্বাচন করার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধান বক্তা ছিলেন এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম উদ্বোধন করেন।

ইকবাল টুকু বলেন, “এবারের নির্বাচন খুব কঠিন হবে। আওয়ামী লীগ প্রকাশ্য শত্রু।”

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম জানান, “৫ আগস্টের পর যদি তারেক রহমান নির্দেশনা না দিয়ে থাকতেন, তাহলে দেশে শান্তি থাকত না। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে এমন কোনো কাজ করা যাবে না।”

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদের প্রতিপক্ষ ছাত্র বা আপনাদের নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। এই নির্বাচন দেশ রক্ষা, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের নির্বাচন।”

১৫ বছর পর অনুষ্ঠিত নওগাঁ জেলা বিএনপির এই দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সরাসরি ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। মোট ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলার ১১টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভায় ১৪টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে