তারাগঞ্জে জামাই-শ্বশুরকে পিটিয়ে হত্যা: ৮ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত, বদল তদন্ত কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৪ আগস্ট, ২০২৫, ১২:১৩ পিএম
তারাগঞ্জে জামাই-শ্বশুরকে পিটিয়ে হত্যা: ৮ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত, বদল তদন্ত কর্মকর্তা

রংপুরের তারাগঞ্জে চোর সন্দেহে জামাই-শ্বশুরকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে থানার দুই এসআই ও ছয় কনস্টেবলকে বরখাস্ত করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে।

রংপুরের পুলিশ সুপার আবু সাইমের নির্দেশে বুধবার (১৩ আগস্ট) এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। বরখাস্ত হওয়া সদস্যরা হলেন এসআই আবু জোবায়ের, এসআই সফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল ফারিকুদ আখতার জামান, ধিরাজ কুমার রায়, হাসান আলী, ফিরোজ কবির, মোক্তার হোসেন ও বাবুল চন্দ্র রায়। জেলা পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে তারা মোবাইল টিমে দায়িত্বে থাকলেও করণীয় পালনে গাফিলতি করেছিলেন।

পাশাপাশি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু জোবায়েরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তারাগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম।

এই ঘটনার সূত্রপাত শনিবার (৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে। তারাগঞ্জ-কাজীরহাট সড়কের বুড়িরহাট এলাকায় চোর সন্দেহে স্থানীয়রা রূপলাল দাস ও তার জামাই প্রদীপ দাসকে আটক করে। পরে লোকজন ভ্যানচোর সন্দেহে তাদের উপর মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসক রূপলাল দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রদীপ দাসও।

নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রূপলাল দাসের মেয়ে নুপুর দাসের বিয়ের কথাবার্তা চলছিল মিঠাপুকুরের শ্যামপুর এলাকার ডিপজল দাসের সঙ্গে। ১০ আগস্ট বিয়ের তারিখ ঠিক করার কথা ছিল। এজন্য প্রদীপ দাস শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে পথ হারালে রূপলাল দাস তাকে পথ দেখাতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু কাজীরহাট এলাকায় পৌঁছানোর পরই তারা স্থানীয়দের হাতে আটক হন।

লোকজন তাদের ভ্যানে থাকা একটি বস্তা থেকে চারটি প্লাস্টিক বোতল পায়। একটি বোতলের তরল ঘ্রাণে দুইজন স্থানীয় অসুস্থ হয়ে পড়লে সন্দেহ আরও বাড়ে। এরপরই শুরু হয় মারধর। বটতলা থেকে মারতে মারতে তাদের বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনা হয়। সেখানেই অচেতন হয়ে পড়লে ফেলে রাখা হয়। পরে পুলিশ উদ্ধার করলেও দুজনের প্রাণ রক্ষা করা যায়নি।

পরের দিন রোববার (১০ আগস্ট) নিহত রূপলাল দাসের স্ত্রী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত ৭০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত এখন নতুন কর্মকর্তার হাতে রয়েছে।