বেসরকারি খাতে যাচ্ছে ‘নগদ’, এক সপ্তাহের মধ্যেই আসছে বিনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৭ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:১৩ পিএম
বেসরকারি খাতে যাচ্ছে ‘নগদ’, এক সপ্তাহের মধ্যেই আসছে বিনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

মোবাইল আর্থিক সেবার প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’কে সরকারি মালিকানা থেকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ডাক বিভাগের অধীনে থাকা এই প্রতিষ্ঠানকে পরিচালনার সক্ষমতা নেই উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, নতুন বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে এবং এ জন্য এক সপ্তাহের মধ্যেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

বুধবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) ও মাস্টারকার্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ সামিট ২০২৫’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর বলেন, “নগদের মালিকানা আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রতিষ্ঠানটিকে সক্ষম ও স্থিতিশীল করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, নগদ চালানোর মতো সামর্থ্য ডাক বিভাগের নেই। এজন্য সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতে গ্রাহকদের ‘ক্যাশ আউট’ নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, মানুষকে ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারে আরও উৎসাহিত করতে হবে এবং নগদ লেনদেনের খরচ ধীরে ধীরে সীমিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ এখন ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে। এই সামিট নীতিনির্ধারক, নীতিপ্রণেতা ও বাস্তবায়নকারী অংশীদারদের একই মঞ্চে এনেছে, যা একটি কার্যকর রূপরেখা নির্ধারণে সহায়তা করবে।

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, ক্যাশলেস সমাজ উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করে, দক্ষতা বাড়ায় এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে।

দিনব্যাপী বিভিন্ন সেশন ও আলোচনায় ফিনটেকের ভূমিকা, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং একটি নিরবচ্ছিন্ন ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম গড়ার কৌশল তুলে ধরা হয়। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ‘রেগুলেটরি রিফর্মস ও পলিসি রোডম্যাপ ফর অ্যা ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এ আলোচনায় অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরাও অংশ নেন।

তাঁরা বলেন, উদ্ভাবন ও ভোক্তা সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্কার, সহায়ক কর কাঠামো ও রেগুলেটরি স্যান্ডবক্স প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় ক্যাশলেস উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিতে সহায়ক হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে