গারো পাহাড়ে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে বন্যহাতির দল

এফএনএস (শাকিল আহমেদ শাহরিয়ার; শেরপুর) : | প্রকাশ: ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ০৪:৪৯ পিএম
গারো পাহাড়ে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে বন্যহাতির দল

গত চার দিন ধরে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আবারও  লোকালয়ে খাদ্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে বন্যহাতির একটি দল। অপরদিকে বন্যহাতি দেখতে প্রতিদিন সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা গুলোতে ভিড় জমাচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার উৎসুক মানুষ। এতে যেকোনো সময় মানুষের প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটতে পারে। তবে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে বলা হচ্ছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয়রা সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার দিবাগত রাত থেকে বন্যহাতির একটি দল ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া, হলদিগ্রাম, গুমড়া, রাংটিয়া এবং কাংশা ইউনিয়নের ছোট গজনী, বড় গজনী, তাওয়াকুচা এলাকার গারো পাহাড়ে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৪৫ টি হাতির একটি দল অবস্থান করছে। হাতির দলটি দিনের বেলা খাদ্যের সন্ধানে পাহাড়ের বিভিন্ন টিলায় ঘোরাঘুরি করলেও শেষ বিকেলে লোকালয়ে নেমে আসে। ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় গ্রামবাসী মশাল জ্বালিয়ে হইহুল্লোড় করে হাতির দলটিকে জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা করছেন ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্যহাতির দলটি সন্ধ্যাকুড়া এলাকার গোলাপ, আকাশমনি কাঠের বাগান ও বিভিন্ন সবজি ক্ষেতে অবস্থান করতে দেখা যায়। পাশাপাশি হাতি সরাতে এলাকাবাসী ও উৎসুক মানুষ সেখানে ভিড় করেছেন। এসময় বন্যহাতির দল ধান ও বিভিন্ন সবজির ক্ষেত পা দিয়ে মাড়িয়ে তছনছ করে ।

সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের কৃষক দেলোয়ার বলেন, বুধবার দিবাগত রাতে বন্যহাতির দল আমার ২৫ শতাংশ ধানের জমি পা দিয়ে পিষে নষ্ট করেছে। গুমড়া গ্রামের সাব্বির বলেন, হাতি আমার বরবটি ও বেগুন চাষের ক্ষেত নষ্ট করেছে।

ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন, হাতির খাবারের জন্য সুফল বাগান তৈরি হয়েছে। সেখানে লতা-পাতা রয়েছে। হাতি সেসব খাচ্ছে। পাশাপাশি চলতি মাসে গারো পাহাড়ের প্রতিটি বিটে দুই হাজার করে কলাগাছ রোপণের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কলাগাছ বড় হলে খাবারের সংকট অনেকটাই কমবে। বনবিভাগ ও ইআরটি হাতির দলকে পাহাড়ের জঙ্গলে পাঠানোর সার্বক্ষণিক চেষ্টা করছেন ।