প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১টায় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গেও আলাপ করেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
ফোনালাপে নুরুল হক নুর কাকরাইলে সংঘটিত সহিংস ঘটনার বিস্তারিত প্রধান উপদেষ্টাকে জানান। তখন ড. ইউনূস তাকে আশ্বস্ত করেন যে ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি নুরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং তার পরিবারকে সান্ত্বনা দেন।
গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ জানান, এর আগে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে নুরকে দেখে আসেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। জাপার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করলে নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে জখম রয়েছে এবং নাকের হাড় ভেঙে গেছে।
এ ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরকে হামলার জন্য দায়ী করেছে। গণঅধিকার পরিষদের অভিযোগ, জাপার নেতাকর্মীরা তাদের মিছিলে হামলা চালায়। অন্যদিকে জাপার দাবি, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরাই প্রথমে তাদের ওপর আক্রমণ চালায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, প্রথমে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করা হলেও পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, রাত ৯টার দিকে মশাল মিছিল থেকে ইটপাটকেল ছোড়া হয় এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাসের পর গণঅধিকার পরিষদ বলেছে, নুরের চিকিৎসা ও ঘটনার তদন্তে সরকারের সরাসরি মনোযোগ তাদের আস্থার জায়গা তৈরি করবে। তবে তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।