বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফের আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে জাতীয় পার্টির ভেতর দিয়ে—এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে বিপদে ফেলতে পারে।
রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেল পৌনে তিনটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলেও এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলার নজির দেখা যায়নি। অথচ এ সরকারের আমলে ঘটেছে, এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ গঠনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তাই এখন জাতীয় পার্টির ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা চলছে। অথচ জাতীয় পার্টি হচ্ছে চিহ্নিত ফ্যাসিবাদী একটি দল। অতীতে তারা বারবার আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী সংসদকে বৈধতা দিয়েছে। ভারত থেকে প্রেসক্রিপশন এনে কৃত্রিম সংসদ ও গণতন্ত্রের নাটক দেখিয়েছে। যদি তাদের কোনোভাবে সমর্থন দেওয়া হয়, তাহলে জনগণ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সেটি কোনোভাবেই মেনে নেবে না।”
তিনি আরও বলেন, আগামী বাংলাদেশে ইনক্লুসিভ নির্বাচনের আড়ালে অনেকে চাইবে আওয়ামী লীগ বা তাদের স্টাবলিশমেন্ট ছাড়া কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা না হোক। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যদি সরকার ও বিরোধী দলে পরিণত হয়, তবে সেই সমঝোতা বাস্তবে রূপ নেবে। আর এই পরিস্থিতি এড়াতেই অনেকে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে কিংবা আওয়ামী লীগকে ভিন্ন ফরমেটে আনার উদ্যোগ নেবে। তবে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো এই প্রচেষ্টা রুখে দিতে প্রস্তুত।
জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা জানান, এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। রোববারই প্রধান উপদেষ্টা কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও জুলাই অভ্যুত্থানে জড়িত সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নুরুল হক নূরের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সাধারণ কোনো রাজনৈতিক কর্মীর ওপর হামলা নয়, বরং একটি দলের প্রধান নেতার ওপর আঘাত। আওয়ামী লীগের সময়েও এমন ঘটনা ঘটেনি। বর্তমান সরকার এর দায়িত্ব এড়াতে পারে না। তিনি নিশ্চিত করেন, শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ঘটনার বিচার হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের সাহস না পায়।