ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। ২০১৯ সালের নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতার আলোকে এবারের নির্বাচনের আগে তারা সতর্কতামূলক ১০টি দাবি উত্থাপন করেছেন।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেটওয়ার্কের নেতারা বলেন, ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচন সর্বাঙ্গীণভাবে সুষ্ঠু হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার প্রশাসনকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায্যভাবে পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। যদিও কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় এখনও উপেক্ষিত রয়েছে।
শিক্ষকরা তাদের দাবিগুলোতে বলেছেন, নির্বাচনে প্রবেশপথ বন্ধ না করে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে এবং প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার হাতে থাকবে তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। নারী শিক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাইয়ে নারী শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পোলিং অফিসার নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং ভোট গ্রহণের সময় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বাড়াতে হবে। এছাড়া পোলিং এজেন্টদের ভেতরে থাকার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং গণমাধ্যমকর্মী ও এজেন্টদের জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইন প্রকাশ করতে হবে।
বুথের বাইরে লাইন ব্যবস্থাপনায় শিক্ষক ও অফিসার নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি গুজব বা ভুয়া তথ্য ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষক ও এজেন্টদের জন্য বিশ্রামকক্ষ রাখার দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষকরা আরও বলেন, কোনো অনিয়ম বা অস্বচ্ছতা দেখা দিলে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
শিক্ষক নেটওয়ার্কের এই ১০ দফা দাবি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। তারা আশাবাদী, এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়ন হলে এবারের ডাকসু নির্বাচন আরও স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।