বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রেখে গণছুটি কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:৪২ পিএম
বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রেখে গণছুটি কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জরুরি বিদ্যুৎ সেবা সচল রেখেই তাদের অনির্দিষ্টকালের ‘গণছুটি’ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ সরবরাহে যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য সারাদেশের ৮০টি সমিতির প্রতিটি উপকেন্দ্রে দুজন করে কর্মীকে দায়িত্ব পালনের জন্য রাখা হবে। এ সময় উল্লেখ করা হয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে যারা দায়িত্বে থাকবেন তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা প্রদান করবেন।

অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, চাকরিতে বৈষম্য দূর করা এবং হয়রানিমূলক পদক্ষেপ বন্ধের দাবিতে এই গণছুটি কর্মসূচি চলছে। মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো ইন্ধনের ভিত্তিতে আন্দোলনে নামিনি। আমাদের উদ্দেশ্য শুধু পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর সমস্যার স্থায়ী সমাধান।” তিনি আরও বলেন, “আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নযোগ্য সব সমস্যা সমাধান করা হোক।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের শোষণ, নিপীড়ন ও দুর্নীতির প্রতিবাদে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে আন্দোলন শুরু হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত বছরের ২৩ অক্টোবর সংস্কারের লক্ষ্যে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে টানা ১৬ দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রেখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয় এবং সে সময় বিদ্যুৎ বিভাগ আশ্বাস দিয়ে লিখিত চুক্তি করে। পরবর্তীতে ৫ জুন বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি এবং ১৭ জুন দুটি কমিটি গঠন করা হলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় বর্তমানে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের গণছুটি কর্মসূচি চলছে। একই সঙ্গে তারা দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনসহ ১৩টি রাজনৈতিক দল তাদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করলেও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব প্রকাশ্যে এই আন্দোলনকে রাষ্ট্রবিরোধী ইন্ধন হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে