মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ চলমান মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হয়েছে। মোট ৩৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করেছে।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এ পর্যায়ের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস এইচ তামিম শুনানি পরিচালনা করেন। তাদের সঙ্গে অন্যান্য প্রসিকিউটররাও উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন দায়িত্ব পালন করছেন। রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
এই মামলার পূর্ববর্তী ধাপে ৩৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়। পরে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্য উদঘাটনে সাক্ষ্য দেন। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে তাকে রাজসাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
এই মামলার পাশাপাশি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে। অন্য মামলাটি রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা হয়।
গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, দলীয় ক্যাডার এবং প্রশাসনের অনুগত অংশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়। বর্তমানে এসব অভিযোগের বিচার দুইটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলছে।