বরিশালের মুলাদীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে নির্যাতনের পর মুখে গ্যাস ট্যাবলেট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। স্বামী প্রবাসে থাকায় নির্যাতন চালিয়ে ওই গৃহবধুর মুখে গ্যাস ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজনেরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের চরকালেখান গ্রামের ডাক্তার বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই গৃহবধুর মৃত্যু হয়।
নিহত গৃহবধুর নাম আখিনূর। তিনি উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের পূর্ব হোসনাবাদ গ্রামের আলমগীর ব্যাপারীর মেয়ে এবং ডাক্তার বাজার এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহাগ দেওয়ানের স্ত্রী। আখিনূরের মৃত্যু পর তার শাশুড়ি নিলুফা বেগম, ননদ নাছিমা বেগম, দেবর সোহেল দেওয়ান ও সোলায়মান দেওয়ান এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিহত গৃহবধুর বাবা আলমগীর ব্যাপারী জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে সোহাগের মা মোবাইল ফোনে তাকে জানান আখিনূর অসুস্থ। পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়ার পথে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মৃত্যু হয়। আখিনূরের শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়ায় আলমগীরের ধারণা, শাশুড়ি-ননদের নির্যাতনে আখিনূরের মৃত্যু হয়েছে।
আলমগীর ব্যাপারীর দাবি, তার মেয়েকে নির্যাতনের পর মুখে গ্যাস ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে আখিনূরের মুখ থেকে গ্যাস ট্যাবলেট বের করেছেন চিকিৎসকেরা। পরে সংবাদ পেয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ আখিনূরের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন। এঘটনায় মুলাদী থানায় মামলা করা হবে বলে জানান আলমগীর।
নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে আখিনূরের ননদ নাছিমা বেগম বলেন, মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে আখিনূর অসুস্থ ছিলো। মাঝে মধ্যে বমি করছিলো। পরে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিকেল ৪টার দিকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, গৃহবধুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এবিষয়ে মুলাদী থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, গৃহবধুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।