প্রধান শিক্ষকের চোখ ক্ষতিগ্রস্তের ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ

এফএনএস (এস. এম. রাসেল; মাদারীপুর) : | প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৬:৩১ পিএম
প্রধান শিক্ষকের চোখ ক্ষতিগ্রস্তের ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ

মাদারীপুরে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনার ঘটনায় ৪দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ। ডান চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নির্যাতিতা ভর্তি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে।আহত শাহানারা বেগম সাহেবরামপুর এলাকার মঙ্গল খানের স্ত্রী ও দক্ষিণ ক্রোকিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। অভিযুক্ত বেল্লাল হোসেন খান ক্রোকিরচর গ্রামের মৃত নেহাল খানের ছেলে ও আরেক অভিযুক্ত রাবেয়া খানম একই এলাকার হারুণ অর রশিদ খানের মেয়ে।

ভুক্তভোগী ও স্বজনরা জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে দক্ষিণ ক্রোকিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম করেন প্রধান শিক্ষক শাহানারা বেগম। এসময় পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ বেল্লাল হোসেন খান বিদ্যালয়ের জমি নিজেদের দাবি করে লোকজন নিয়ে শাহানারা বেগমের ওপর হামলা চালায়। এসময় তাকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ডান চোখ। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এই ঘটনায় ওইদিনই থানায় বেল্লাল হোসেন খানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী। পুলিশ এ ঘটনায় মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে ঘটনা অভিযুক্ত করে। পরে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকের পরিবার।

এদিকে আহত প্রধান শিক্ষককে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেলে কলেজের চক্ষু বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন শাহানারা বেগম। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জিডি করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদলত থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত মোতাবেক নেয়া হবে আইনি ব্যবস্থা। এদিকে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলে দাবি করেন তারা।

অভিযুক্তদের একজন রাবেয়া খানম বলেন, শাহানারা বেগম আমাদের জমি দখল করতে চায়। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান। আমরা তাকে মারধর করিনি। বরং তিনি ক্ষমতাধর লোক নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমাদের শিশুদেরও মারধর করেছে। আমরা তাদের ভয়ে কালকিনি হাসাপাতালে চিকিৎসাও নিতে পারিনি। পরে মাদারীপুরে চিকিৎসা নেই।

মাদারীপুরের কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধ থাকায় দুইপক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। শিক্ষিকা শাহানার বেগমের অভিযোগটি জিডি করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালত থেকে সিদ্ধান্ত পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অপরপক্ষের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত চলছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে