হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ডেঙ্গুতে অর্ধেকের বেশি রোগীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৭:৪৪ পিএম
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ডেঙ্গুতে অর্ধেকের বেশি রোগীর মৃত্যু

দেশে ডেঙ্গুর প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের অর্ধেকেরও বেশি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মারা যাচ্ছেন। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

ডা. আবু জাফর জানান, বর্তমানে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর প্রধান কারণ শক সিনড্রোম। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক মারা গেছেন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিনে। এরপরের দিনে মৃত্যু হয়েছে বাকি রোগীদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের। বিশেষজ্ঞরা জানান, ডেঙ্গুর সাধারণ রূপ হলো ডেঙ্গু জ্বর। এতে উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা ও ত্বকে র‌্যাশ দেখা দেয়। সাধারণভাবে এই পর্যায়ে রোগীরা স্বাভাবিকভাবেই সেরে ওঠেন। কিন্তু জটিল রূপ ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার (ডিএইচএফ) এবং শক সিনড্রোমে আক্রান্তদের মৃত্যু ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। শক সিনড্রোমে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায়, হাত-পা ঠান্ডা হয়, শরীর ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং কিডনি, লিভারসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে।


চলতি বছরের ডেথ রিভিউ অনুযায়ী, ১১৪টি মৃত্যুর মধ্যে ৫৭ জন মারা গেছেন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই। এছাড়া ৫৬ জন শক সিনড্রোমে এবং ৩৬ জন এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোমে (ইডিএস) মারা গেছেন। ডা. মো. হালিমুর রশিদ জানিয়েছেন, আক্রান্ত রোগীরা সাধারণত ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে হাসপাতালে আসে। তবে প্রথম দুই দিনে হাসপাতাল পৌঁছানো রোগীর সংখ্যা কম হওয়ায় মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৮১ জন। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২,৫০৯ জন। জেলা ভিত্তিক মৃত্যু সর্বোচ্চ ঢাকা জেলায়, এরপর বরগুনা। হাসপাতাল ভিত্তিক তথ্য মতে, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বয়সভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০–৩০ বছরের রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৬ সেপ্টেম্বর ১২ দফা জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে। এতে দেশের সব মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডা. আবু হোসেন মঈনুল আহসান জানিয়েছেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এখন এক বিশেষজ্ঞ দলের অধীনে পরিচালিত হবে, যাতে একই ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট চিকিৎসক দল রোগীদের দেখাশোনা করবে।

ডা. জাফর আরও সতর্ক করেছেন, ডেঙ্গুতে সময়মতো চিকিৎসা শুরু না হলে মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তিনি সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “যত ব্যবস্থা নেওয়া হোক না কেন, জনগণ যদি সচেতন না হয়, ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া কঠিন।”

সপ্তেম্বরেই ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে এবং মৃত্যুও বেশি হয়েছে। গত কয়েক দিনে প্রতি দিনের ডেঙ্গু সংক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বর মাসটি সবথেকে উদ্বেগজনক।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে