চাটমোহরের বিরোধপূর্ণ ঈদগাহের নিয়ন্ত্রণ নিলো প্রশাসন

এফএনএস (হেলালুর রহমান জুয়েল; চাটমোহর, পাবনা) :
| আপডেট: ১০ অক্টোবর, ২০২৫, ০৪:৩৯ পিএম | প্রকাশ: ১০ অক্টোবর, ২০২৫, ০৪:৩৯ পিএম
চাটমোহরের বিরোধপূর্ণ ঈদগাহের নিয়ন্ত্রণ নিলো প্রশাসন

পাবনার চাটমোহরে ঈদগাহের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর বিরোধপূর্ণ সেই ঈদগাহের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে প্রশাসন। 

উপজেলার আটলংকা ও বন্যাগাড়ীর ব্যবহৃত যে ঈদগাহ মাঠ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে,সেই সম্পত্তি কোন গ্রামেরই নয়। ঈদগাহ মাঠটি সরকারি জায়গাতে অবস্থিত। চাটমোহর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) বুধবার (৮ অক্টোবর) ঈদগাহ মাঠে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে.‘এই ঈদগাহ ময়দানটি ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি সম্পত্তি,যা সকল স্তরের মুসলমান সাধারণের ব্যবহার্য,এই ঈদগাহ কোন নির্দিষ্ট এলাকার ব্যক্তি/গোষ্ঠি/প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে লীজ/বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ঈদের নামাজ আদায় ব্যতীত এই সম্পত্তি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য কোন কাজে ব্যবহার,অবৈধ দখল বা কোন প্রকার স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন,‘‘গত ৩ অক্টোবর সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। মূলত ঈদগাহ মাঠের নামকরণ করা নিয়ে আটলংকা ও বন্যাগাড়ী গ্রামবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। এ ব্যাপারে উভয় পক্ষ থানায় পৃথক দুইটি মামলা করেছে। অভিযোগের তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী জানান,এলাকার শান্তি শৃঙ্খলঅ রক্ষা করা দরকার। তাছাড়া সরকারি সম্পত্তি নিয়ে এমন ঘটনা অনাকাঙ্খিত। সরকারি সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। 

প্রসঙ্গতঃ, স্থানীয় ঈদগাহের নামকরণ করা নিয়ে আটলংকা ও বন্যাগাড়ী গ্রামের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ঈদে দুই গ্রামের লোকজন পুলিশের উপস্থিতিতে পৃথকভাবে ঈদের নামাজ আদায় করেন। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার থানায় ও স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য দুই গ্রামের গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা বসেন। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরপরই ‘আটলংকা ঈদগাহ মাঠ’ নামে নামফলক লাগানো নিয়ে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়।