শহিদুল আলম দেশে ফিরে বললেন “গাজা এখনও মুক্ত নয়, আমাদের সংগ্রাম চলবে”

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১১ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৫১ এএম
শহিদুল আলম দেশে ফিরে বললেন “গাজা এখনও মুক্ত নয়, আমাদের সংগ্রাম চলবে”

ঢাকায় ফিরে ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্ত হওয়া আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলম সরাসরি বার্তা দিলেন—গাজায় মানুষের ওপর নির্যাতন এখনও থামেনি, ফিলিস্তিন মুক্ত না হলে সংগ্রাম শেষ হবে না। শনিবার (১১ অক্টোবর ২০২৫) ভোর পৌনে পাঁচটায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর তিনি এই মন্তব্যগুলো করবেন।

ইস্তাম্বুল হয়ে দেশে ফেরা শহিদুল জানান যে বাংলাদেশ ও তুরস্ক সরকারের সহায়তায় তিনি নিরাপদে ফিরে এসেছেন। দেশে ফিরে তিনি এমন সময় কৃতজ্ঞতা জানান যে “বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা আমাকে ফিরে আসার সুযোগ করে দিয়েছে,” এবং সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে যোগ করেন, “গাজার মানুষ এখনও মুক্ত হয়নি; তাদের ওপর এখনও আক্রামণ ও নির্যাতন চলছে। আমাদের কাজ কিন্তু শেষ হয়নি।”

ঘটনাপট স্পষ্ট—গত বুধবার গাজামুখী ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ বহরকে ইসরায়েলি বাহিনী আক্রমণ করে। ওই বহরে থাকা ‘কনশানস’ নামের জাহাজে ছিলেন শহিদুল আলম; নৌবহরের অন্যান্য জাহাজসহ মিডিয়াকর্মী, চিকিৎসক ও অধিকারকর্মীদের আটক করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কয়েকটি কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দেশের কূটনৈতিক চেষ্টায়, বিশেষত জর্ডান, মিশর ও তুর্কিতে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয়ে এবং তুরস্ক সরকারের সহায়তায় তিনি মুক্তি পেয়ে ইস্তাম্বুলে পৌঁছান; এরপর ঢাকায় ফিরেন।

শহিদুলের সংগ্রামের আখ্যান এখানে থামে না—বিমানবন্দরে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের মতো আরও হাজার ফ্লোটিলা যাওয়া দরকার, যতদিন না ফিলিস্তিন স্বাধীন হয়।” একইসে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যে অপমানবোধ অনুভব করেছেন তার কথাও জানান—বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখে ইসরায়েলি এক সৈন্য সেটি মাটিতে ফেললে তিনি অবাক ও কষ্টবোধ করেছিলেন। “এটা দেখে আমার খুবই খারাপ লেগেছে। এটি মেনে নেওয়া যায় না; এর বিচার দাবি করতে হবে,” তিনি বললেন।

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও শহিদুলের মুক্তি ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েক এরদোয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বলে জানানো হয়েছে। বিমানবন্দরে শহিদুলকে বরণ করতে এসে তাঁর স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব, আলোকচিত্রী ও গবেষক মুনেম ওয়াসিফসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। দৃকের ফেসবুক পেজে শনিবার সকাল সাতটার দিকে শহিদুলের দেশে ফেরার ছবি পোস্ট করা হয় এবং বিজ্ঞপ্তি দেয়ার কাজ করেন দৃকের ইনোভেশন ম্যানেজার রাহাত করিম।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ধরনের নৌবহরের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ ফিলিস্তিন ইস্যুকে নতুন করে সামনে এনেছে; অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নেওয়া কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আন্তঃসাম্য ও সহমতের ওপর। তবে শহিদুলের নিজ ভাষ্য যে “গাজাবাসী এখনো নির্যাতনের মধ্যে”—এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি একটি সরাসরি আহ্বান হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে যে পারস্পরিক প্রচেষ্টাই সিটি-লেভেলে ঘটমান নির্যাতন থামাতে পারে।

শহিদুল আলম নিজেও মনে করিয়ে দেন, ব্যক্তিগত ভোগান্তি যতই কষ্টকর, গাজার মানুষের সংগ্রামের সামনে তা তুচ্ছ। “আমাদের আসল সংগ্রাম এখনো বাকি আছে। ফিলিস্তিন মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে,” তিনি বিমানবন্দরে বলেন। দেশের বিভিন্ন মহল এবং মানবাধিকার গ্রুপ তার মুক্তি ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে খুশি হলেও, শহিদুল নিজে মনে করিয়ে দিলেন কাজ শেষ হয়নি—এখন তা অন্য এক মাত্রায় পৌঁছেছে: কূটনৈতিক, জনসমর্থন ও স্যাক্রিফাইসের মিশ্রণে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার লক্ষ্যে ধারাবাহিক আন্দোলন বজায় রাখা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে