বাংলাদেশে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানাতে সোমবার (২০ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়েছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। বর্তমান সরকারের বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষকদের আন্দোলন শুরু হয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি নেতৃত্বে বিএনপি প্রতিনিধি দল সেখানে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতি সংহতি জানান।
গত ১২ অক্টোবর থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং উৎসব ভাতার বর্ধিত পরিমাণের দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাদের দাবি, বর্তমান বাড়িভাড়া ভাতার পরিমাণ, যা মূল বেতনের ৫ শতাংশ, তা তাদের জীবিকার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। তারা সরকারকে দাবি করেছেন, মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর।
আজ সকাল সাড়ে ১১টায় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে বিএনপির নেতারা জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের কোন আস্থা নেই এবং তারা শিক্ষকদের এই আন্দোলনে সমর্থন জানাবেন। শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, “শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি আছে এবং থাকবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা জাতীয়করণ করা হবে, যাতে শিক্ষকদের আর আন্দোলনে না আসতে হয়।”
১৯ অক্টোবর, অর্থ মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করার ঘোষণা দেয়। তবে শিক্ষকরা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন। তারা দাবি করছেন, বর্ধিত ভাতা তাদের বর্তমান জীবিকা ও ব্যয় ব্যবস্থার সঙ্গে কোনোভাবেই সমন্বিত হচ্ছে না। আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা দেলাওয়ার হোসেন আজিজী জানিয়েছেন, “আমরা শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। তার প্রতি আমাদের কোন আস্থা নেই, আমরা এখন প্রধান উপদেষ্টার দিকে তাকিয়ে আছি।”
শিক্ষক-কর্মচারীরা এখন শহীদ মিনারে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন, যা নবম দিনে প্রবাহিত হয়েছে। তারা জানান, এই আন্দোলন চলবে যতক্ষণ না তাদের দাবি পূর্ণ হয়। আন্দোলনের মধ্যে বিএনপির নেতাদের সমর্থন আন্দোলনকারীদের জন্য একটি বড় সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সরকার ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া ভাতার ঘোষণা দেয়, যা প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট। তারা তাদের তিন দফা দাবির প্রতি দৃঢ় অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।