পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ঝাকড়া গ্রামের জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও তার জামাতা মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক মসজিদের জায়গা দখলের অপচেষ্টা করা হচ্ছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে সভাপতি-সম্পাদক গং মসজিদের জায়গায় টিনের ঘর তুলেছেন। এনিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে যে কোন মূহুর্তে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযোগে জানা গেছে,শতাধিক বছরের পুরোনো ঝাকড়া জামে মসজিদে গ্রামের লোকজন নামাজ আদায় করছেন। গ্রামের বাসিন্দা আঃ আজিজ মাস্টার মসজিদে জমি দান করেন। তার পূর্ব পুরুষের দেওয়া জমিতেই মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু মসজিদের সভাপতি হন গ্রামের প্রভাবশালী তয়জাল মোল্লা আর সাধারণ সম্পাদক হন তারই মেয়ের জামাই ফরিকুল ইসলাম। সম্প্রতি মসজিদের সভাপতি তয়জাল মোল্লা মসজিদ সংলগ্ন জমি ক্রয় করেন। এক পর্যায়ে তয়জাল মোল্লা গং মসজিদের রেকডীয় জমিতে ঘর তুলতে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এলকার লোকজন ও মসজিদে জমি দাতারা বিষয়টি থানা পুলিশে জানান। পুলিশের নিষেধ অমান্য করে জোরপূর্বক ঘর তোলা হয়। এনিয়ে গ্রামে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়।
গ্রামের বাসিন্দা কলিম উদ্দিন,শুকচাদ,গোলাম মোস্তফা ঠান্টু,মোকছেদ আলীসহ অন্যরা অভিযোগ করেন মসজিদের সভাপতি তয়জাল মোল্লা আর তার মেয়ে জামাই সাধারণ সম্পাদক। ফরিকুল মসজিদের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। কিন্তু মসজিদের জমিদাতারা কোন মর্যাদা পাননা। মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাবও দেওয়া হয়না। সম্প্রতি সভাপতি মসজিদের পাশের জমি কিনে মসজিদের রেকডীয় জমিতে জোরপূর্বক ঘর তুলেছেন। মসজিদের সভাপতি হয়ে মসজিদের জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
মসজিদ কমিটির সভাপতি তয়জাল মোল্লা জানান,তিনি জমি কিনেছেন। যে অংশ কিনেছেন,সেখানে মসজিদ রয়েছে। তাই মসজিদের অংশ তিনি দখল করেছেন। তার দাবি আমার জায়গায় যেহেতু মসজিদ,সেহেতু মসজিদের জায়গা আমাকে রেজিস্ট্রি করে দিলে,আমার জায়গা মসজিদে রেজিস্ট্রি করে দেবো।
গ্রামবাসীর দাবি মসজিদের জায়গা সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ করতে হবে। কিন্তু সভাপতি তা করছেন না। শত বছরের মসজিদের অবস্থান যেখানে আছে,সেখানে জেনেশুনেই সে জমি কিনেছে। মসজিদের সভাপতি হয়ে তিনি বিরোধ তৈরি করছেন। মসজিদের জায়গা কেন সভাপতি কিনলো-এ প্রশ্ন গ্রামবাসীর। গ্রামবাসী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বেচ্ছাচারিতার বিচার দাবি করেছেন।
মসজিদের সাধারণ সম্পাদক ফরিকুল ইসলাম,সভাপতির ছেলে সাইফুল ইসলাম জানান,যারা এ নিয়ে বিরোধ করছেন,তারা না জেনেই করছেন। মসজিদ আসলে মসজিদের জায়গায় নেই। যে জায়গা মসজিদের সেটা ফাঁকা রয়েছে। সে কারণে সেখানে ঘর তোলা হয়েছে।
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনজুরুল আলম জানান,অভিযোগ পাওয়ার পর ঘর নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জমির সীমানা নির্ধারণ করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।