ভোলার দৌলতখানে জয়নুল আবেদীন আলিম মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষককের উপর হামলার প্রতিবাদে অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রহিম জসিমের বিরুদ্ধে বিচার দাবিতে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করছে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার অধ্যক্ষের বিচার দাবিতে পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় তিনশত শিক্ষার্থী (আরবি) কোরআন ১ম পত্র পরীক্ষা অংশগ্রহণ করেন নি।
এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে এবং প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মোঃ মহসিন, এবিএম মনির উদ্দিন, বিবি ফাতেমা বেগম, সাজেদা বেগম, মোঃ হাবিবুল্লাহ, মোঃ হোসেন, ইয়া ইয়া জানান, বুধবার ক্লাস চলাকালীন সময় প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক (শরীরচর্চা) মোঃ ইয়াছিনকে অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম জসিম ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও এলোপাথারী কিল ঘুসি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম করে আহত করায় শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের এহনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবিতে পরীক্ষা বর্জন করে। শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষকের গায়ে হাত তোলায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে এ সময় অধ্যক্ষের হামলায় দশম শ্রেণির ইশা, নবম শ্রেণির লামিয়া, আয়েশা, আমেনা, সপ্তম শ্রেণির শামীমা ও খাদিজাসহ ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়।
আহত শিক্ষক মোঃ ইয়াছিন জানান, বুধবার ক্লাস চলাকালীন সময়ে ৬১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার ফি জমা দিয়ে আমার থেকে এডমিট কার্ড নেয়। এতে অধ্যক্ষ আমাকে ডেকে পুরো ৬১ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফি আমার পকেট থেকে জমা দেওয়ার কথা বলেন। আমি টাকা দিতে আপত্তি জানালে অধ্যক্ষ অতর্কিত হামলা করে আমাকে আহত করেন।
ঘটনাটি তাৎক্ষণিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিয়তিরাণী কৈরিকে জানিয়েছি। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রহিমকে পাওয়া যায়নি। তিনি প্রতিষ্ঠানে আসেন নি। দৌলতখান থানা সাব ইন্সপেক্টর মাইনুল ইসলাম জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।