ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের ৫টি আসনের মধ্যে ৩টিতে হাল ছাড়ছেন না বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতরা। প্রাথমিক মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের পক্ষে নানা কর্মসূচি পালন অব্যাহত রেখেছেন দলের বিভিন্ন পদপদবীতে থাকা নেতাকর্মী ও অনুসারীরা। চাঁদপুর সদর ও হাজীগঞ্জ - শাহরাস্তি আসনের মনোনয়ন বঞ্চিতরা আছেন অনেকটাই চুপচাপ। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেও হাল ছাড়ছেন না মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে কর্মসূচিতে নতুনত্ব আনার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তনের জন্য রিভিউ কর্মসূচি নিয়ে এখনো মাঠে আছেন অনেকে।
সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, চাঁদপুর ১, কচুয়া আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন। এখানে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ২০১৮ সালের মনোনয়ন প্রাপ্ত মো. মোশারফ হোসেন। মনোনয়ন বঞ্চিত এই নেতার পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়।
চাঁদপুর -২ মতলব আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. জালাল উদ্দীন। এখানে মনোনয়ন পরিবর্তনের জন্য রিভিউ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে রয়েছেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এমএ শুকুর পাটোয়ারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক প্রতিমন্ত্রী নুরুল হুদার ছেলে তানভীর হুদা ও ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক সরকার মাহাবুব আহমেদ শামীম।প্রাথমিক তালিকায় নাম না থাকায় মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পৃথক রিভিউ পোস্ট করেছেন আলোচিত এসব নেতারা ।
চাঁদপুর -৩ সদর আসনে পুনরায় দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদ আহমেদ মানিক।তাঁর জায়গায় মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হন বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা খান সফরী, কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা সদস্য আজম খান এবং চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য মাহবুবুর রহমান শাহীন। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে উল্লিখিত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কোন বিদ্রোহ দেখাননি।
চাঁদপুর -৪ ফরিদগঞ্জ আসনে পুনরায় ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদ। এখানে মনোনয়ন বঞ্চিত হন একাধিকবার দলীয় মনোনয়ন চেয়ে আসা দলের দুঃসময়ের কারা নির্যাতিত নেতা এমএ হান্নান। জনমত জরিপের ভিত্তিতে তাকে দলীয় চূড়ান্ত মনোনয়ন দিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান। এমএ হান্নান ও দলের একাংশ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীবৃন্দ।তার পক্ষে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি নিয়ে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।
চাঁদপুর -৫ হাজীগঞ্জ - শাহরাস্তি আসনে আবারো দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মুমিনুল হককে। এখানে একাধিক নেতা মনোনয়ন চেয়েও পাননি। এখন দেখার অপেক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে চাঁদপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে কোন আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন হয় কিনা?