সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা, আর শুকনা মৌসুমে ধুলোর আবরণ সাতক্ষীরা পৌরসভার গড়েরকান্দা ও কুখরালি এলাকার মানুষজনের কাছে এ যেন বহু দিনের সঙ্গী। এলাকার ভেতরের এই সরু ইটের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। কোনো কোনো স্থানে ইট উঠে গর্ত দেখা দিয়েছে, কোথাও বা পাশের মাটি ধসে রাস্তাটির অর্ধেকটাই ভেঙে গেছে। দুই পাশে নতুন ইটের পাইলিং করা হলেও মূল সড়কের ইট বসানো কাজ অদ্ভুতভাবে অসম্পূর্ণ রেখে চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে- যেন দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার তাড়া।
রাস্তার দুই পাশ ঘেঁষে আছে বসতবাড়ি, মাঝে মাঝে ঝোপঝাড়ের পরই নেমে গেছে সরু নালা। দুপাশে ইটের সীমানা দেয়াল তুললেও রাস্তার ভেতরের ইটগুলো বসানো হয়েছে ঢালু ও অসমানভাবে, যেন কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ। পায়ে হেঁটে চলার সময় খচখচে ইট উঠে আসছে, সাইকেল বা মোটরসাইকেল চালানো তো দূরের কথা-হাঁটাচলাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষার সময় এ রাস্তা প্রায় অচল হয়ে যায়। হাঁটু সমান কাদা আর নালা উপচে পড়া পানি মিলে রাস্তাটি তখন যেন ছোটখাটো খালে পরিণত হয়। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী, কর্মজীবী মানুষজন, বয়স্ক রোগী-সবার জন্যই যাতায়াত এ রাস্তায় দুঃস্বপ্ন।
স্থানীয় খাদিজা আক্তার, কেয়া সুলতানা বৃষ্টি, সুফিয়া খাতুনসহ অনেক নারী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘রাস্তার দুরাবস্থায় আমাদের কপাল মন্দ। কয়েক মাস আগে ইটের কাজ শুরু হলো, তারপর একটু করে তুলে কোথাও বসানো, কোথাও ফেলে রাখা। এখন যেই অবস্থা, আগের চাইতেও খারাপ। মনে হয় না কোনো প্রকৌশলী এ কাজ তদারকি করেছেন।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ’ মানুষ চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের সঠিক উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলেও তা অর্ধেক রেখে বিলম্ব করছে-এতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
কুখরালি এলাকার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, পৌরসভা দ্রুত এ রাস্তার কাজ নিয়মমাফিক ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করবে। নালা-ড্রেন ঠিকঠাক না থাকলে বর্ষায় আবারও পরিস্থিতি একই হবে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাতক্ষীরা পৌরসভার একজন কর্মকর্তা বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র পদ নিয়ে কাড়াকাড়ি করার কারণে এ পৌরসভার মানুষ এক প্রকার অভিভাবক শুন্য। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমরা যারা পৌরসভায় কর্মরত আছি, তারা শুধু কাগজে কলমে ফরমায়েশি অর্ডার পালন করছি। শহরের প্রত্যেকটি রাস্তার একই অবস্থা। নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। শুধুমাত্র ভাতাভোগীদের ও কার্ডধারীদের কিছু কাজ ছাড়া মূলত এখানে অবকাঠামোগত কোন কাজ করার সুযোগ আমাদের নেই। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকার কারণে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নাগরিকরা। পানি ও বিদ্যুৎ সমস্যা তো আছেই। শহরের এই এলাকায় এখনো সব জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি পর্যন্ত স্থাপন করা হয়নি। ফলে বাড়ির উপর দিয়ে ‘লুজ তার’ ব্যবহার করে চরম ঝুঁকির মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ লাইন টানা হয়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চান পৌরবাসি।