রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের জন্য খোঁড়া গর্তে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে জীবিত ফিরে পেতে এক নির্ঘুম রাত কেটেছে উদ্ধারকর্মীদের। সঙ্গে স্বজন ও স্থানীদেরও। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত, রাত গড়িয়ে পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা। এভাবে চলে গেছে ২৩ ঘন্টা। এরপরও উদ্ধার করা যায়নি শিশুটিকে। এবার গর্তের ভিতরে সুড়ঙ্গ করা হচ্ছে। অপরদিকে, বৃহস্পতিবার ১১ ডিসেম্বর সকালে ঘটনাস্থলের অদূের সন্তানকে ফিরে পেতে মা রুনা খাতুন আহাজারি করে বলছেন তুমি কাইড়া (কেড়ে) নিও না আল্লাহ আমার ছেলেকে বলে বিলাপ বকছেন। এতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। আর স্থানীয় মানুষ ও রাজশাহী-১ তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘আল্লাহপাকের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। এরপরও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এরির্পোট লেখা পর্যন্ত শিশু সাজিদকে পাওয়া যায়নি। এর আগে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর একটার দিকে তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু সাজিদ কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের রাকিব উদ্দীনের ছেলে। তবে সকাল হতে না হতে উদ্ধার অভিযানস্থলে শতশত উৎসুক মানুষ ভিড় জমিয়েছে। তাদের সরাতে বেগ পেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। এর আগে বুধবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কয়েক দফা নলকূপের ৩৫ ফুট গর্তে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ক্যামেরা নামায়। কিন্তু ওপর থেকে পড়া মাটি ও খড়ের কারণে শিশুটি তারা দেখতে পায়নি। তবে একই দিন দুপুরে শিশুটির কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। তবে থেমে নেয় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান। এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ করছে। গর্ত করার পরে এখন সুড়ঙ্গ করা হচ্ছে। এরপর সুড়ঙ্গ দিয়ে মইয়ের সাহায্যে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী স্টেশনের সহকারী পরিচালক দিদারুল ইসলাম ও তানোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো. আব্দুর রউফ জানান, দুটি এঙ্কেভেটর মেশিন দিয়ে প্রায় ৩৫ ফিট মাটি খুড়া হয়েছে। এরপরও শিশুটিকে পাওয়া যায়নি। তবে, উদ্ধারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে। মানুষের কোলাহলের কারণে এখন শিশুটির কোনো সাড়া বুঝতে পারছেন না তারা। ই/তা