আপন ভাইয়ের সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য জালজালিয়াতির মাধ্যমে ভুলভাল ভাবে দলিল সম্পাদন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি একটি দাগে জমি থাকলেও দলিলে দুইটি দাগ ও দুইজন দলিল লেখকের নাম উল্লেখ করার বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন পৈত্রিক সূত্রে ওই জমির প্রকৃত মালিক রিপন মিত্র। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সুন্দরদী মৌজার।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ওই এলাকার বাসিন্দা মৃত বজ্রবিলাস মিত্রের ছেলে রিপন মিত্র অভিযোগ করে বলেন-গত ছয় মাস পূর্বে একদিন রাতে আমার আপন কাকা নারায়ন চন্দ্র মিত্র একটি দলিলের ফটোকপি দেয় (দলিল নং-৫৯৬/৮৬)। দলিল সম্পাদনের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৮৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। অথচ ওই সময়ে আমার দাদা মনোরঞ্জন মিত্র জীবিত ছিলেন। পরবর্তীতে দাদা ১৯৯০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। দাদা জীবিত থাকা অবস্থায় আমার বাবা বজ্রবিলাস মিত্র কিভাবে দাদার সম্পত্তি বিক্রি করে দলিল দিয়েছেন তা প্রশ্নবিদ্ধ।
রিপন মিত্র আরও বলেন-দলিলে দাতা হিসেবে আমার বাবা বজ্রবিলাস মিত্র ও গ্রহিতা হিসেবে আমার অপর কাকা নারায়ন মিত্র। ৩৯ বছর আগের দলিলে লেখা প্রথম পাতায় ৬৩ নম্বর সুন্দরদী মৌজার ১০৪৫ নম্বর খতিয়ানের ১৯৩৪ নম্বর দাগের ১০ শতক জমি বিক্রির কথা উল্লেখ করে ২ নম্বর পাতার নিচে লেখা তফসিল বর্ণিত ভূমি যাহা আমার নিজ নামে। আবার ৩ নম্বর পাতায় ৭৭ জি, ৭৫-৭৬ নম্বর মিউটেশন কেচের ১৯৭৬ সালের ১৫ জানুয়ারি তারিখের হুকুম মোতাবেক রেকর্ড আমার এবং ৪ নম্বর পাতায় ছাপ কবলা দলিল মূলে বিক্রয় করিলাম মর্মে উল্লেখ রয়েছে।
রিপন মিত্র আরও বলেন-৫ নম্বর পাতার তফসিলে লেখা ৮৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তফসিল ভূমি গৌরনদী সাব রেজিষ্টার ৬৩ নম্বর সুন্দরদী মৌজার ১০৪৫ নম্বর খতিয়ানে ১৯৪৩ নম্বর দাগের ১০ শতক জমির দলিলে একবার লেখক হিসেবে জিতেন্দ্র নাথ সরকার। পরিচিত স্বপন কুমার মিত্র (রিপন মিত্রের আরেক কাকা মৃত) এবং একই দলিলে অপর লেখক হিসেবে স্বপন কুমার সরকারের নাম উল্লেখ রয়েছে।
রিপন মিত্র অভিযোগ করে বলেন-ডকুমেন্টসহ আমাদের ১০৪৫ নম্বর খতিয়ানে একটি মাত্র দাগ ১৯৩৪-৮১ শতক দলিলে লেখা দুইটি দাগ এবং তফসিল বর্নিত ভূমির দাগ ১৯৪৩। যা আমাদের বাড়ির দাগ নয় এবং যে রেকর্ড আমার বাবা বজ্রবিলাস মিত্রের নামে দেখানো হয়েছে, সেটা আমার দাদা মনোরঞ্জন মিত্রর রেকর্ড নং-৭৭ জি। আবার লিখেছে দলিল মূলে তাহলে দলিল নম্বর থাকবে দাগ দুইটা। রেকর্ড মূলে আবার দলিল মূলে তাও দুইটা, লেখক তাও দুইজন বিষয়টি সম্পূর্ণ রহস্যজনক।
রিপন মিত্র বলেন-এনিয়ে সৃষ্ট রিবোধ দেখা দিলে ওই দলিলটি আমার কাকা নারায়ন মিত্র ঠিক করার কথা জানিয়েছেন। যেখানে দলিলের দাতা ও পরিচিত মৃত সেখানে কিভাবে দলিল ঠিক করা হবে তাহাও প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি (রিপন) আরও বলেন-জালজালিয়ারিত মাধ্যমে করা এ দলিল দিয়ে গত সাত মাসে আমাদের অনেক ক্ষতি করা হচ্ছে।
রিপন মিত্র বলেন-জালজালিয়াতির মাধ্যমে যে জমি আমার কাকা নারায়ন মিত্র দাবি করছেন, ২০১০ সালে সেই জমির কাগজপত্র ইসলামী বাংক টরকী শাখায় মর্গেজ রেখে আমরা ঋণ উত্তোলন করেছি। বিষয়টি তখন পরিবারের সবাই জানলেও সেসময় আমার কাকা নারায়ন মিত্র কিংবা তার কোন ওয়ারিশগণ বলেননি ওই জমি তারা ক্রয় করেছেন।
ভূক্তভোগী রিপন মিত্র বলেন-শুধুমাত্র আমাদের হয়রানীর উদ্দেশ্যে সম্প্রতি ১৯৪৩ দাগের পরিবর্তে ১৯৩৪ দাগে আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে। তিনি (রিপন মিত্র) তার কাকা নারায়ন মিত্রের জালজালিয়াতির মাধ্যমে সম্পাদন করা দলিল থেকে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নারায়ন মিত্রের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি না হলেও শুধু বলেছেন-আদালতের মাধ্যমে আমি আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি বুঝে নিবো।