সৈয়দপুরে সওজ'র কয়েকশো কোটি টাকা মূল্যের ভূ-সম্পত্তি বেদখল

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৫২ পিএম
সৈয়দপুরে সওজ'র কয়েকশো কোটি টাকা মূল্যের ভূ-সম্পত্তি বেদখল

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কয়েকশো কোটি টাকা মূল্যের ভূ-সম্পত্তি বেহাত হয়ে গেছে। সরকারের এ সম্পদ উদ্ধারে নেই কর্তৃপক্ষের কোনো জোর তৎপরতা।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির মতে, দিনাজপুর থেকে সৈয়দপুর হয়ে ঢাকা সরাসরি সড়কপথে চলাচল করতে এ মহাসড়ক নির্মাণ করা হয় ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে। এজন্য কর্তৃপক্ষ সড়ক নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ করে । এ সড়কটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সৈয়দপুর শহরের মাঝ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে শহরের পার্বতীপুর মোড় থেকে সড়ক ও জনপথ দপ্তরের ওই সড়কটি কুন্দল গ্রামের হাড়ি মামুন শাহর ব্রিজ পর্যন্ত রয়েছে। যা দৈর্ঘ্যে প্রায় তিন কিলোমিটারের কাছাকাছি। এতে সড়কের উভয় পাশ মিলে ৯২০ শতকের বেশি জায়গা অবৈধ দখলে চলে গেছে। বর্তমানে এ রাস্তার পাশের এক শতক জায়গার দাম ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা মূল্যের ভূ-সম্পত্তি বেহাত হয়ে গেছে। সার্ভেয়ার ও সমাজসেবক ইয়াসিন আলী সরকারের তথ্য মতে, এই সড়কটি সিএস, এসএ ও বিএস নকশায় শহরের মূল কেন্দ্রে সড়কের টপ (যানবাহন চলাচল করে যতটুকু জায়গায়) ২৬ ফুট। সেই হিসাবে রাস্তার প্রশস্ততা স্থান ভেদে ৬০ থেকে ৭০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু বর্তমান সময়ে এ সড়কটির কিছু কিছু অংশে সড়কের টপ নকশার চেয়ে অনেক কম। তার মতে সড়কের টপ অংশ বাদ দিয়ে রাস্তার দুই পাশের অংশ পুরোপুরি বেদখলে চলে গেছে। জনসংখ্যার চাপ এবং যান্ত্রিক যানের সংখ্যা বর্তমান সময়ে শতগুণ বেড়েছে। সেই হিসাবে আগের মতো রাস্তার প্রশস্ততা নেই। এজন্য দখল হয়ে যাওয়া সড়কের অংশ উদ্ধার করে পথচারীদের কল্যাণে কাজে লাগানোর দাবি করেন তিনি। 

সড়ক ও জনপথের এ সড়ক বিষয়ে মন্তব্য জানতে কথা হয় সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, রাস্তার টপ (উপরের অংশে যান চলাচলে ব্যবহৃত) ২৬ ফুট হলে সেখানে রাস্তার উভয় পাশে সোল্ডার (মূল রাস্তার তীর) হবে ১০ ফুট করে এবং স্লোপিং হতে হবে (রাস্তার ভিত্তি) ৭ ফুট। সব মিলে এমন রাস্তা নির্মাণে প্রশস্ততা হবে ৬০ ফুটেরও বেশি।  বিশিষ্টজনরা জানান,,শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়া মহাসড়কের জায়গা সমাজের প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন।

আর এই দখল প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও নজরদারির অভাবে শত শত কোটি টাকার ভূ-সম্পদ অবৈধ দখলে গেছে। ওইসব ব্যক্তির মতে,শহরের যানজট নিরসনে সওজ কর্তৃপক্ষ শহর বাইপাস সড়ক নির্মাণ করে প্রায় ২৫ বছর আগে। ওই সড়ক নির্মাণ করতে আবাদি জমি নষ্ট হয়েছে হাজার একরের মতো। আর্থিক ব্যয় হয়েছে কয়েক'শ কোটি টাকা। অথচ শহরের মাঝ দিয়ে মহাসড়কের যে অংশ চলে গেছে সেই সড়কের জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করে রাস্তার প্রশস্ততা বৃদ্ধি করা হলে সরকারের বাইপাস সড়ক নির্মাণে বাড়তি টাকা খরচ হতো না। আমলাতন্ত্রের গাফিলতির কারণে জনগণের কষ্টার্জিত টাকার অপচয় থামছে না।

সৈয়দপুর শহরের সড়ক ও জনপদ বিভাগের রাস্তার জায়গায় অবৈধ দখল বিষয়ে জানতে কথা হয় নীলফামারী সড়ক বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী জুয়েল আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের সার্ভেয়ারের কাছে রক্ষিত পুরাতন নথি ঘাটলে সড়কটির অধিগ্রহণকৃত জায়গার সঠিক হিসাব মিলবে।

একই বিষয়ে মন্তব্য জানতে মুঠোফোনে কথা হয় নীলফামারী সড়ক ভবনের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদের সঙ্গে। তিনি মুঠোফোনে বলেন, বেদখল হয়ে যাওয়া ভূ-সম্পদ উদ্ধারে আমরা নোটিস দিয়ে থাকি। সৈয়দপুরের বিষয়েও অবৈধ দখলদারকে দখল ছাড়তে নোটিস দেয়া হবে।