জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় মিলছে, শনাক্ত ৮ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় মিলছে, শনাক্ত ৮ জন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি মিলেছে। রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে উত্তোলন করা মরদেহগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে ৮ জন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পরিচালিত এই কার্যক্রমের মাধ্যমে নিখোঁজ শহীদদের পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটানোর চেষ্টা চলছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে মোট ১১৪ জনের মরদেহ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিআইডির ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিকেল ফরেনসিক টিমের পরীক্ষায় ৮ জন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

শনাক্ত হওয়া শহীদরা হলেন ফয়সল সরকার, পারভেজ বেপারী, রফিকুল ইসলাম (৫২), মাহিম, সোহেল রানা, আসানুল্লাহ, কাবিল হোসেন এবং রফিকুল ইসলাম (২৯)। সিআইডি জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নিহত নারী ও পুরুষ শহীদদের কয়েকজনকে অজ্ঞাত হিসেবে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে তাদের পরিচয় উদঘাটনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশকে। আদালতের অনুমতি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। রোববার (৭ ডিসেম্বর) থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয় এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে ইউএনএইচআরসির সহায়তায় মিনেসোটা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুইস ফন্ডেব্রিডারের নেতৃত্বে এবং ফরেনসিক বিজ্ঞানী ডা. মরিস টিডবল বিনজের প্রশিক্ষণে দেশীয় টিম কাজটি সম্পন্ন করছে। এ পর্যন্ত শহীদ পরিবারের ৯টি পরিবারের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর ভিত্তিতেই ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, বাকিদের শনাক্তে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান, সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা। বক্তারা জানান, পুরো কার্যক্রম আইন, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে, যাতে মর্যাদা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত থাকে।

সরকারি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু পরিচয় শনাক্তেই সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যৎ বিচারিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণ এবং শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাও এর বড় উদ্দেশ্য।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে