সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানার দুই শ্রমিকের মৃত্যু, কারণ নিয়ে দ্বন্দ্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানার দুই শ্রমিকের মৃত্যু, কারণ নিয়ে দ্বন্দ্ব

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা নৌঘাট সংলগ্ন সমুদ্র সৈকত থেকে দুই শিপব্রেকিং শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় ফায়ার সার্ভিসের একটি দল নিহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন সাইফুল ইসলাম (২৫) ও আবদুল খালেক (২৭), যাদের বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়।

নিহত শ্রমিকেরা কেআর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে কাজ করতেন। ফায়ার সার্ভিসের কুমিরা স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা আল মামুন জানান, রাত আড়াইটার দিকে একটি নৌকা নিয়ে শ্রমিকেরা কারখানার আশপাশের সমুদ্র তীরে পাহারা দিচ্ছিলেন। এ সময় একদল ডাকাত হামলা চালায়। “ডাকাতরা সাইফুলকে ধরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। খালেক নৌকা থেকে সাগরে ঝাঁপ দেয়, এতে তার মৃত্যু হয়,” তিনি বলেন। সাইফুলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে খণ্ডবিখণ্ড অবস্থায়, আর খালেকের লাশ অক্ষত পাওয়া গেছে।

তবে শিল্প পুলিশ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। পরিদর্শক নাহিদ হাসান মৃধা জানিয়েছেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে নতুন জাহাজ বিচিং করার সময় দুর্ঘটনা ঘটেছে। জাহাজটি নৌকার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।” স্থানীয় জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামও একই দাবি করেছে। ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত বলেন, “রাতের বেলা ঘন কুয়াশায় জাহাজ বিচিং করার কারণে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে। মূল বিষয় এড়িয়ে ডাকাতি দাবি করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।”

জাহাজভাঙা কারখানার মালিক তাসলিম উদ্দিন দাবি করেছেন, “আমার কারখানায় কোনো কাজ চলমান ছিল না। সম্প্রতি আসা জাহাজটি ভাঙার অনুমতি এখনও হয়নি। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, ডাকাতদলের হামলার ঘটনা।”

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) চট্টগ্রাম সেন্টারের সমন্বয়কারী ফজলুল কবির বলেন, “ঘন কুয়াশায় বিচিং করার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। হংকং কনভেনশন অনুযায়ী বিচিংয়ের আগে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত ছিল।”

বিলসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা ইয়ার্ডগুলোতে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৫৮ শ্রমিক আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৪ জন নিহত। দুর্ঘটনার প্রায় ৬৩ শতাংশ মারাত্মক, যেখানে হাত-পা কাটা, হাড় ভাঙা, মাথা-চোখ-বুকে গুরুতর আঘাত, আগুন ও বিস্ফোরণসহ স্থায়ী অঙ্গহানি ঘটেছে।

শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত তদারকি ছাড়া জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের জীবন হুমকির মুখে থাকে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত কারখানা পরিচালনা ও শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে সজাগ থাকা প্রয়োজন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে