দিনাজপুর-৬ (নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, ঘোড়াঘাট ও হাকিমপুর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অভ্যন্তরীণ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও বিভেদের অবসান ঘটেছে। দলের হাইকমান্ডের কঠোর নির্দেশনার পর গতকাল (৫ জানুয়ারি) থেকে নির্বাচনী এলাকার রাজপথে এবং দলীয় কার্যালয়ে দুই হেভিওয়েট নেতার অনুসারীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় পর বিবাদমান দুই পক্ষের এই মিলনকে স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সোমবার বিকেলে নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়। সেখানে দেখা যায় এক অন্যরকম দৃশ্য-দীর্ঘদিন যারা একে অপরের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে দলীয় কর্মসূচি পালন করতেন তারা আজ একই সারিতে বসা। এই সময় নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের প্রথম সারির প্রায় সকল নেতার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘদিন পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করে আসা বিএনপির অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা এ জে এম সাহাবুদ্দিন সুজন সভায় বলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আমাদের জন্য চূড়ান্ত। আমরা দিনাজপুর-৬ আসনের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও উন্নয়নের স্বার্থে এক হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করছি। দল যাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দিয়েছে, আমরা সবাই তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। আমাদের মধ্যে এখন আর কোনো বিভেদ নেই। অন্যদিকে দিনাজপুর-৬ আসনের মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন আপনারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিভেদ ভুলে আমার কাছে এসেছেন এ জন্য আপনাদের অভিনন্দন জানাই। আমাদের মূল লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। আপনারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ শুরু করুন ঐক্যবদ্ধ থাকলে ইনশাআল্লাহ আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর-৬ আসনে দীর্ঘদিন ধরে এ জে এম সাহাবুদ্দিন সুজনের সমর্থক এবং ডা. জাহিদ হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে সাংগঠনিক দূরত্ব বজায় ছিল। এর ফলে দলীয় কর্মসূচিগুলো পৃথকভাবে পালিত হতো যা তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছিল। তবে গতকালের এই দৃশ্যপটের পর নেতাকর্মীদের মধ্যে খুশির আমেজ বিরাজ করছে। বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট এলাকার কয়েকজন কর্মী জানান নেতাদের এই ঐক্য আগামী নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ভালো বার্তা দিবে। দলীয় সূত্রমতে বিএনপির হাইকমান্ড থেকে সারা দেশের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দিনাজপুর-৬ আসনের এই গণসংযোগ ও মিলনমেলা সেই নির্দেশনারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।