মণিরামপুরে রানা প্রতাপ হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা

এফএনএস (জি. এম ফারুক আলম; মণিরামপুর, যশোর) :
| আপডেট: ৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম | প্রকাশ: ৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
মণিরামপুরে রানা প্রতাপ হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা

বরফকলে যাওয়া কথা বলে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি থেকে বের হয় রানা প্রতাপ বৈরাগী। ঘটনার দিন বেলা তিনটার দিকে বের হওয়ার পর সন্ধ্যায় ছেলে খুনের কথা জানতে পারেন। কাটাখালি মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি ছিলেন নিহত রানা প্রতাপ। বরফকলের পাশাপাশি কপালিয়া বাজারে তার মাছের আড়ৎ ছিল। তার ১০ বছর বয়সী ছেলে রয়েছে।  কথাগুলো কান্নাজড়িত কন্ঠে বলছিলেন দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগীর বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী। তিনি বছর চারেক আগে কেশবপুর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা কৃষ্ণনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক থেকে অবসরে যান। এদিকে বরফ ও মৎস্য ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে (৪৫) হত্যাকান্ডে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার নিহতের পিতা তুষার কান্তি বৈরাগী বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় এই মামলা করেছেন। যার মামলা নং-১৪। এদিকে হত্যাকান্ডের এখন পর্যন্ত হত্যার কারণ জানতে পারেনি পুলিশ এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অ্যাপস) আবুল বাশার জানান, এই কিলিং মিশনে তিনজন অংশ নেয়। তারা সবাই অস্ত্রধারি ছিল। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকান্ডে ৭.৬৫ এবং ৯.৮ বোরের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। এতে ধারনা করা হচ্ছে কিলিং মিশনে অংশ গ্রহনকারি প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা অস্ত্র (পিস্তল) থেকে গুলি চালিয়েছে। নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগীর নামে হত্যা, বিস্ফোরক ও একটি ধর্ষন মামলা রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় ও পুলিশের একাধিক সূত্রমতে, মাছের ঘেরে চাঁদাবাজি নিয়ে প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, নারী ঘটিত অথবা চরমপন্থীদের অভ্যন্তরীন কোন্দলের জেরে এ হত্যাকান্ড ঘটতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। পুলিশও এই সূত্রগুলো নিয়ে হত্যার মোটিভ উদঘাটনে অনুসন্ধানে নেমেছে। এদিকে এলাকায় প্রচার রয়েছে হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থলের পাশে একটি বিউটি পার্লারের স্বত্ত্বাধকিারের সাথে নিহত রানা প্রতাপের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্টতা ছিল। সম্পর্কের এই বিষয়টি সামনে চলে আসায় বিউটি পার্লারের মালিক ঝুমুর মন্ডলসহ কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রজিউল্লাহ খান বলেন, রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যার কারণ এখনও উদঘাটন করা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।