রাষ্ট্রের অর্থে এমপিও সুবিধা নিচ্ছে, অথচ রাষ্ট্রীয় বিধি মানছে না-এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ইচাদী নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার বিরুদ্ধে। ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে টানা ৮১ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো ছাত্রী ভর্তি নেওয়া হয়নি। ফলে পুরো একটি এলাকার কিশোরীরা পরিকল্পিতভাবেই শিক্ষাবঞ্চিত হয়ে আসছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশপাশে বিকল্প কোনো মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় মেয়েদের তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরের স্কুলে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নোনাজল, কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে সেই পথ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বাস্তবতায় অষ্টম শ্রেণির পরই ঝরে পড়ে বহু শিক্ষার্থী। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষাবঞ্চনার সুযোগে বেড়েছে বাল্যবিবাহের ঝুঁকিও। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে মানববন্ধনে নামে এলাকাবাসী। বুধবার (০৭ জানুয়ারি ২০২৬) ইচাদী নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত মানববন্ধনে ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সাধারণ জনগণ স্পষ্ট ভাষায় বলেন-“এটি শুধু অবহেলা নয়, এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য।” তবে অভিযোগ অস্বীকার না করেও পুরোনো প্রথার দোহাই দিয়েছেন মাদ্রাসার সুপার মো. সাইয়্যেদ আহমেদ। তিনি বলেন, “এটি ছেলেদের মাদ্রাসা হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত। মেয়েদের কখনো ভর্তি নেওয়া হয়নি। পুরোনো নিয়ম ভাঙতে চাই না।” প্রশ্ন উঠেছে-একটি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি ‘প্রথা’র অজুহাতে সরকারি নীতিমালা অমান্য করতে পারে? পটুয়াখালী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, “ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মেয়েদের শিক্ষা অধিকার আছে অতএব মেয়েদেরকে ভর্তি করতে হবে। আমাদের উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার রয়েছে এবং আমি নিজেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছি, আমি আশা করি তারা এই অবস্থান থেকে ফিরে আসবে এবং মেয়েদের ন্যায্য অধিকার দিবে। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে ২৭০ জন শিক্ষার্থী ও ১২ জন শিক্ষক রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কীভাবে আট দশক ধরে অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে বাইরে রাখে-সে প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর নয়, গোটা শিক্ষাব্যবস্থার সামনে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের একটাই দাবি-প্রথা নয়, আইন চলুক; অবহেলা নয়, খুলে দেওয়া হোক মেয়েদের শিক্ষার দরজা।