বেগমগঞ্জে (বিসিআইসি) সার ডিলারদের অনিয়ম

এফএনএস (নাসির উদ্দিন মিরাজ; বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী) : | প্রকাশ: ৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:২৩ এএম
বেগমগঞ্জে (বিসিআইসি) সার ডিলারদের অনিয়ম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) অনুমোদিত সার ডিলারদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার সাধারণ কৃষকরা। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, কৃষি কার্ড থাকা সত্ত্বেও সার না দেওয়া এবং পছন্দের কৃষকদের কাছে অগ্রাধিকার দিয়ে সার সরবরাহ করার মতো অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী বেগমগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে ১৬ জন ডিলার থাকার কথা। রয়েছে মাত্র ১০ জন। এছাড়াও প্রতি ইউনিয়নে নয় জন করে সাব-ডিলার থাকার  কথা। সাব -ডিলারদের সার সরবরাহ না করায় ও ভোগান্তির কারণে অনেকে ডিলারশিপ বন্ধ করে দিয়েছে। জমিদার হাট রসুলপুর ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ডের সাব-ডিলার আনোয়ার হোসেন হারুন জানান, রসুলপুর ইউনিয়নের ডিলার মেসার্স সালাউদ্দিন আহমেদ  চাহিদা মোতাবেক সার বন্টন না করায় কৃষকদের মাঝে বিক্রি করতে পারি না। সরকারি মূল্যের চেয়ে অধিক দামে কিনতে হয়। এই কারণে ডিলারশিপ থেকে অব্যাহতি দিয়েছি। ৩ নং ওয়ার্ডের সাব ডিলার জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, ডিলারের অনিয়মের কারণে কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে স্যার বিক্রি করতে পারি না। মাঝে-মধ্যে দুই চার বস্তা দিলেও চাহিদা বেশী হলে দাম বাড়িয়ে দেয়। অনেক সাব- ডিলারকে সার না দিয়ে লাঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ডিলার সার কালোবাজারে বিক্রি করে দেয়। এসব অনিয়মের কারণে ৯ জন সাব ডিলার থাকলেও ২-৩ জন সক্রিয়। তিনি আরও জানান, আরেকজন ডিলার মেসার্স লিহান ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী ডাক্তার হানিফ মাহমুদ ভূঁইয়া সারের জন্য ডিলারের কাছে গেলে তাকে অপমান করা হয়। এ বিষয়ে ডাক্তার হানিফের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, সদ্য বদলী হওয়া সাবেক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান তার ওয়ার্ডের জন্য বোরো মৌসুমে ডিসেম্বর-২০২৫ এ ইউরিয়া -২৪০ বস্তা, টিএসপি -১৯২ বস্তা, ড্যাপ -৮০ বস্তা, এমওপি- ১৫২ বস্তা বরাদ্দ করলেও এখন পর্যন্ত তাকে কোনো সার দেওয়া হয়নি। এদিকে মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার দিলীপ কুমার সাহা জানান, তার ইউনিয়নে কৃষকদের মাঝে ন্যায্য মূল্যে সার সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ  ৯জন সাব ডিলার থাকার কথা, কিন্তু  ২/১ জন সক্রিয়।  ৯নং ওয়ার্ডের সাব,-ডিলার তোফায়েল আহমেদ জানান, চাহিদা মোতাবেক সার কৃষকদের মাঝে দেওয়া সম্ভব হয় না। ডিলারের সাথে সমন্বয় করে কৃষকদের মাঝে কিছু দেওয়া হয়। তার জন্য কত বস্তা সার বরাদ্দ হয় তা-ও তিনি জানেন না।  স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমন ও বোরো মৌসুমে সার সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডিলারের দোকানের সামনে অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় বলা হয় সার নেই, অথচ গোপনে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। গোপালপুর ইউনিয়নের ফারুক নামের একজন কৃষক জানান, “সরকারি দামে সার পাওয়ার কথা থাকলেও আমাদের বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে সার দেওয়া বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয় ডিলাররা।” এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ডিলার দাবি করেন, “সরবরাহ কম থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।” তবে কৃষকরা এ বক্তব্যকে অজুহাত হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, নিয়মিত তদারকি ও মনিটরিং না থাকার কারণেই বিসিআইসি সার ডিলাররা এমন অনিয়ম করার সুযোগ পাচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, আমি যোগদান করেছি মাএ দুই তিন দিন। , আমরা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছি, কোথায় অভিযোগ আছে। অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে