লক্ষ্ণীপুর সদর উপজেলার বটতলী থেকে দত্তপাড়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঝাড়ুমিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ১০ থেকে ১১ টা পর্যন্ত সদর উপজেলার বটতলী এলাকায় ঢাকা-লক্ষ্ণীপুর মহাসড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। সড়ক অবরোধের ফলে লক্ষ্ণীপুর ও চৌমুহনীগামী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যায়। তবে আন্দোলনকারীরা অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার আওতাভুক্ত যানবাহন চলাচলের সুযোগ করে দেন। এদিকে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলেন, সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত। অন্যদিকে অনেকেই মনে করছেন, সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতির লাগাম টানতেই এমন কর্মসূচি প্রয়োজন। সাময়িক দুর্ভোগ হলেও এতে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের টনক নড়বে বলে তারা মন্তব্য করেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বটতলী থেকে দত্তপাড়া পর্যন্ত সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি পুনরায় মানসম্মতভাবে সংস্কার না করা হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়বে। আন্দোলনকারী আবুল হাসান সহেল বলেন, “অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের এই কর্মসূচি। আমরা সড়কটির পুনরায় সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। দাবি মানা না হলে এলজিইডি অফিস ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।” এ বিষয়ে লক্ষ্ণীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, “সড়কের কাজ নিয়ে আমরা বিষয়টি জেনেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তারা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। আশা করছি দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।” তিনি আরও বলেন, “আজকের আন্দোলনের বিষয়টি আমাদের আগে থেকে জানা ছিল না।”