রাণীনগরে আগুনে ১১টি খড়ের পালা ভস্মীভূত

এফএনএস (মোঃ ওহেদুল ইসলাম মিলন; রাণীনগর, নওগাঁ) :
| আপডেট: ১১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম | প্রকাশ: ১১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
রাণীনগরে আগুনে ১১টি খড়ের পালা ভস্মীভূত

নওগাঁর রাণীনগরে এক রাতে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে ১১টি খড়ের পালা ভস্মীভূত হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে উপজেলার রাতোয়াল রাখালগাছী পাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটে। আগুন লাগার খবর পেয়ে রাতেই ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম দ্রুত ছুটে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রন করে। এতো গুলো খড়ের পালা ভস্মীভূত হওয়ায় গরু নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন কৃষকরা। এঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ওই গ্রামের বাবুর আলীর ছেলে মাসুদ রানা জানান,গভীর রাতে হঠাৎ করেই খড়ের পালায় আগুন জ্বলতে দেখে প্রতিবেশির লোকজন। এসময় লোকজনের হৈচৈ শুনে দ্রুত বাড়ী থেকে বের হয়ে দেখি দাউ দাউ করে পালায় আগুন জ্বলছে। এছাড়া একই সময়ে গ্রামের মধ্যে আরো বেশ কয়েকটি পালায় আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এসময় গ্রামের লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রন করতে দিশে হারা হয়ে পরে। সাথে সাথে রাণীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম দ্রুত ছুটে এসে গ্রামবাসীর সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রন করে। মাসুদ রানা জানান,পূর্ব শত্রুতার জ্বের ধরে হয়তো কে বা কাহারা এক সাথে একই গ্রামের ১১টি খড়ের পালায় আগুন ধরে দেয়। তিনি বলেন আগুনে তার তিনটি,একই পাড়ার গৌড় প্রামানিকের ছেলে আলেপ হোসেনের চারটি,আব্দুস সামাদের ছেলে জনি আহম্মেদের দুটি এবং আব্দুল হান্নানের দুটি খড়ের পালা আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। এতে প্রায় মোট পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এঘটনার খবর পেয়ে থানাপুলিশ রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছে। মাসুদ রানা জানান, তার গোয়াল ঘরে মোট ১২টি গরু রয়েছে। কিন্তু সবগুলো খড়ের পালা ভস্মীভূত হওয়ায় গরু গুলোকে খাবার দেয়া নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন। জনি আহম্মেদের মা রমিছা বেওয়া জানান,চলতি বছরে প্রতি বিঘা খড় প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমরা গরীব মানুষ। কোন রকমে খড় কিনে এবং জমি থেকে ধানের লাড়া কেটে ৩/৪টি করে গরু লালন পালন করে সংসার পরিচালনা করি। আগুনে খড়ের পালা পুড়ে দেয়ায় আর এক  মুঠো খড়ও নেই। এখন কিভাবে চারটি গরু লালন পালন করবো তা নিয়ে চরম বেকায়দায় পরে গেলাম। ওই গ্রামের আলেপ হোসেন বলেন,তিনি দিন মজুরের কাজ করে এবং বাড়ীতে পরিবারের সহায়তায় গরু লালন পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তার বাড়ীতে বর্তমানে ৫টি গরু রয়েছে। কিন্তু আগুনে সবগুলো খড়ের পালা ভস্মীভূত করে দেয়ায় গরুর খাবার নিয়ে চরম বিপদে পরেছেন। তিনি বলেন,খড় কিনার মতো সাধ্য নেই। ফলে গরু বিক্রি করে খড় কিনতে হবে। এঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জরিতদের বিচারের দাবি জানান আলেপ হোসেন। রাণীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন লিডার দেলোয়ার হোসেন বলেন,খবর পেয়ে সাথে সাথে ছুটে গিয়ে গ্রামবাসীর সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে।  রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ জানান,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিদর্শণ করা হয়েছে। এঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে