লবণাক্ত জমিতে সরিষা চাষে বিপ্লব

এফএনএস (মহানন্দ অধিকারী মিন্টু; পাইকগাছা, খুলনা) : | প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
লবণাক্ত জমিতে সরিষা চাষে বিপ্লব

দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে হলুদ ফুলের আলোক ছটা। চারিদিকে সরিষা ফুলের ম ম গন্ধে পথিক বিভোর। চলতি মৌসুমে খুলনার পাইকগাছায় লবণাক্ত জমিতে সরিষা চাষে বিপ্লব হয়েছে। বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের মুখে আনন্দের ঝিলিক। লবণাক্ত এ উপজেলা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে সরিষার আবাদ। কৃষক ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছে। উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. হারুণ মোড়ল তিনি হিতামপুর মৌজায় ১০ হেক্টর জমিতে বীনা সরিষা ৯ জাতের বিনা চাষে সরিষার আবাদ করেছেন। ‘গত বছর সরিষার ভালো ফলন পেয়েছিলেন। এবারও সরিষা চাষ করেছেন। কৃষি অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনায় বীজ ও সার এবং কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে হাতেকলমে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। ফসল দেখে আশাবাদী এবারও বাম্পার ফলন হবে। গত বছরের চেয়ে এবার আবহাওয়া অনুকূলে আছে তিনি জানান। একই ভাষ্য জানান, কপিলমুনি ইউনিয়নের নাছিরপুর গ্রামের কৃষক হান্নান, সাত্তার সহ অন্যান্য উপজেলার কৃষকরা। সরিষা ক্ষেত দেখতে আসা হিমাঙ্গীনি মন্ডল, ঝর্না মন্ডল ও মঙ্গলী মন্ডল বলেন, চলতি মৌসুমে মাঠে মাঠে সরিষার হলুদ ফুলের সুবাস আর হলুদ রঙে সমারোহ। ম ম ঘ্রাণে আকৃষ্ট হচ্ছে প্রাণীকূল।সরিষা লাভজনক ফসল। কম খরচে বেশি লাভ হয়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় চাষে ১৪৯ হেক্টর ও বিনা চাষে ৯০ হেক্টর মোট ২৩৯ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। ফলনও ভালো হওয়ার আশা। কিছু দিনের মধ্যে কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। এক হেক্টর জমিতে ৩-৪ মণ সরিষা পাওয়া যাবে। ১ কেজি সরিষা থেকে ৩৫০ গ্রাম থেকে ৪০০ গ্রাম তেল পাওয়া যায়। সরকারি ভাবে কৃষকদের সার ও বীজ প্রণোদনা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক মাঠে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। সয়াবিন তেলের মূল্য নিয়ে চলছে তেলেসমাতি। এ জন্য কৃষক এবার সরিষা আবাদের দিকে ঝুঁকছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন বলেন, সরিষা লাভজনক ফসল। লবণাক্ত আর লবণ পনির মৎস্যঘের অধ্যুষিত এঅঞ্চলে আমান ধান দেরিতে কর্তন, মাটিতে জো আসতে দেরি হওয়ায় কৃষকেরা ইচ্ছা থাকলেও বীজ বপন করতে পারেনি। উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২৮০ জন কৃষকদের মধ্যে প্রণোদনা ও ফলোআপ দেয়া হয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে। এছাড়া বীণা বাংলাদেশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ১কেজি করে বীজ ৫শত কৃষককে প্রদান করা হয়েছে। সরিষা চাষিদের মাঠ পর্যায়ে তদারকি ও নিয়মিত পরিদর্শন পরামর্শ প্রদান করেছেন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। সরিষা ফসল উঠে গেলে সে সমস্ত জমিতে ইরি বোরো রোপণের জন্য প্রস্তুত করা হবে বলেও তিনি জানান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে