মৎস্য দপ্তরের বিশেষ কম্বিং অপারেশন চলমান

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
মৎস্য দপ্তরের বিশেষ কম্বিং অপারেশন চলমান

মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী বেহুন্দি,বাধা ও অন্যান্য ক্ষতিকর অবৈধ জাল (চরঘেরা মশারী জাল, টং জাল, কারেন্ট জাল, পাই জাল ইত্যাদি) জাগ এবং পাঙ্গাস চাই অপসারণে বিশেষ কম্বিং অপারেশন-২০২৬ চলছে। মৎস্য অধিদপ্তর, চাঁদপুর এর চলমান এই কার্যক্রম এর মধ্যেও থেমে ইেন চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে নির্বিচারের নদ নদীর বিভিন্ন প্রজাতির  মাছের পোনা নিধন।  রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী পরিচয়ে এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি দিন-রাত নিষিদ্ধ জাল দিয়ে বাইল্যা,চিংড়ি, শিলং,রিডা,আইরসহ এ সব পোনা ধরছে অসাধু জেলেরা। আর নিধন করা পোনা প্রতিদিন গ্রামেগঞ্জে এমনকি শহরের অলিগলিতে বিক্রি হচ্ছে। জানা যায়, নদীতে অধিকাংশ মাছই শীত মৌসুমের আগে ডিম ছাড়ে। শীত মৌসুমে ইলিশ, চিংড়ি, পাঙ্গাস, আইড়, রিটা, পাবদা, পোয়া, চেউয়া, টেংরাসহ প্রায় ৩৫ প্রজাতির মাছের পোনায় ভরপুর থাকে নদীগুলো। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে নদী ছেঁকে ফেলছে এবং নির্বিচারে নিধন করছে এসব মাছের পোনা। জোয়ার-ভাটার জো সময় বুঝে মধ্যরাতে পাতাজাল, বেহুন্দীজাল, মশারী জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল নিয়ে জেলেরা নেমে পড়ছে নদীতে। এ সব জালে শুধু মাছের পোনাই নয়, উঠে আসছে কাঁকড়াসহ উপকারী বিভিন্ন জলজ প্রাণী। নিধন করা পোনা চাঁদপুর সদর উপজেলার আনন্দবাজার, সফরমালি,লালপুর,বড়স্টেশন,  পুরানবাজার, দোকানঘর বহিয়া হরিনা আখনেরহাট সহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে নদীর পাড়েই দাদনদারদের কাছে বিক্রি করে দেয় জেলেরা। ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত অগণিত জেলে পোনা নিধন করে থাকে। জানুয়ারি মাসের শুরুতে নদীতে প্রচুর কুয়াশা ও শীত পরায় এবার নদ নদীর রেনুপোনা বেশি দেখা গেছে।  খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুরাণবাজার রনাগোয়াল এলাকায় বাইলার গুড়া বা সাগরের পোনার নামে ধ্বংস করা হচ্ছে বিভিন্ন মাছের পোনা নিধন।রনাগোয়াল নুরু বকাউলের বাড়ির পিছনে প্রতিদিন ৩৫টি নৌকা দিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মন মাছ বেচাকেনা হয়। এই চক্রের লিটন গাজী , কাঞ্চন, মানিক, হান্নান, কাসিম ছৈয়াল, বাদল, আরশাদ এদের নেতৃত্বে চলে পোনা নিধন কার্যক্রম। এরা প্রকাশ্যে বলে নৌ পুলিশ ও মৎস অফিসকে ম্যানেজ করে তারা এ কাজ করছে। এভাবে নির্বিচারে পোনা নিধন করার কারণে নদ-নদীতে হ্রাস পাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পুরানবাজার রনগোয়াল এলাকার নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে বলেন, শীত মৌসুমে নদীতে প্রচুর পরিমাণে মাছের পোনা পাওয়া যায়। গুড়া মাছ ধরতে নদীতে নামার আগে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও নৌ-পুলিশকে হাত করতে হয়। এরপর জোয়ার-ভাটার সময় বুঝে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল নিয়ে নদীতে নেমে পড়েন তারা। জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শবেবরাত সরকার বলেন, নির্বিচারে পোনা নিধনের ফলে চাঁদপুরে প্রতিনিয়তই কমছে মাছের উৎপাদন। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়তে পারে। চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমাদের নিয়মিত কম্বিং অভিযান চলমান রয়েছে। তবে আমরা বিষয়টি অবগত আছি, গত কয়েকদিন পূর্বেও কয়েকটি মশারী জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি  চাঁদপুর জেলা মৎস্য অফিসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন বাইল্যা মাছসহ নদ নদীতে পাওয়া যায় এমন বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধনের মহোৎসব চলছে চাঁদপুরের পুরানবাজর রনাঘোয়াল,বড় স্টেশন, বহরিয়া, হরিনা এলাকায়। এই পোনার সাথে নষ্ট হচ্ছে অন্য প্রজাতির মাছে পোনা। ৩৫টি নৌকা দিয়ে প্রতিদিন ৫০/৬০ মন বালিয়ার পোনা বেচাকেনা হয় রনাগোয়াল নুরু বকাউলের বাড়ির পিছনে। প্রতিদিন এই পোনা মাছ বিক্রির হাট বসছে।রমজান এই পোনা মাছের আমদানি বেশি হলে তারা প্লাস্টিকের ড্রামে করে ঢাকা সহ বিভিন্ন জায়গায় চালানি করছে। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এদিকে নজর নেই জেলা প্রশাসনের। এই বালিয়ার পোনা নিধন বন্ধ করতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছে সচেতন মহল।