নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো জনপরিসরে বক্তব্য রেখে সবার প্রতি দেশের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। ভিন্ন মত ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও একসঙ্গে বসে আলোচনা করাকেই তিনি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে তুলে ধরেন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঢাকা ফোরাম আয়োজিত ‘জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাইমা রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশে ফেরার পর প্রথমবার জনসমক্ষে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিলেন জাইমা রহমান। লন্ডনে লেখাপড়া ও আইন পেশায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করা জাইমা রহমান দেশে ফেরার আগে বিএনপির একটি ভার্চুয়াল ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছিলেন। দেশে আসার পর দাদি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের সময় বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে সাক্ষাতে বাবার পাশে তাঁকে দেখা যায়, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।
আলোচনা সভায় নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে জাইমা রহমান বলেন, “ভিন্ন এক আবেগ নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছি। বাংলাদেশের পলিসি লেভেলে এটি আমার প্রথম বক্তব্য। আমি এমন কেউ নই, যার কাছে সব প্রশ্নের উত্তর আছে বা সব সমস্যার সমাধান জানা আছে।” তিনি আরও বলেন, “তবু আমি বিশ্বাস করি, নিজের ছোট জায়গা থেকেও সমাজের জন্য, দেশের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা আমাদের সবার মধ্যে থাকা উচিত।”
ভিন্নমতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখানে উপস্থিত সবাই একরকম নন। আমাদের আদর্শ, অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা। তারপরও আমরা একসঙ্গে বসেছি, কথা বলছি, একে অন্যের কথা শুনছি। এই ভিন্নতা নিয়েই আলোচনা করাই গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য।”
নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন জাইমা রহমান। তাঁর ভাষায়, “জনসংখ্যার অর্ধেক অংশকে একপাশে রেখে বাংলাদেশ বেশিদূর এগিয়ে যেতে পারবে না। টেকসই উন্নয়নের জন্য নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।”
অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, নারীদের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা অর্থায়নের সুযোগ সীমিত থাকা। বিশেষ করে নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে নানা সমস্যায় পড়েন। ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবেন, তাদের এই বিষয়ে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর নারীরা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলেও মন্তব্য করেন।
সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা তামারা আবেদ বলেন, নারীদের শুধু জনসংখ্যার অংশ হিসেবে দেখলে চলবে না। তাদের মানবসম্পদ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। নারীদের মধ্যে থাকা সুপ্ত সম্ভাবনাকে সামনে আনতে পারলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।