বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ‘নিষিদ্ধ’ করতে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন!

এফএনএস স্পোর্টস
| আপডেট: ২১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম | প্রকাশ: ২১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ‘নিষিদ্ধ’ করতে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন!

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে ‘জনস্বার্থে’ দায়ের করা একটি মামলা (পিআইএল) গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার শুনানিতে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, এ ধরনের আবেদন আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়। আবেদনকারী দিল্লি হাইকোর্টে ‘জনস্বার্থ মামলা’ দায়ের করে আবেদন করেছিলেন যে, বাংলাদেশকে যেন সব ধরনের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ‘সহিংসতার’ কারণ দেখানো হয়েছিল আবেদনে। মামলাটিতে আদালতের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল যে, যতদিন না সে দেশে হিন্দুদের ওপর সহিংসতা বন্ধ হচ্ছে ততদিন যাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলো পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসংক্রান্ত, যা সম্পূর্ণভাবে নির্বাহী বিভাগের আওতাধীন। এ ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত আদালত নিতে পারে না। শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে আদালতের রিট এখতিয়ার বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা কিংবা অন্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর প্রযোজ্য নয়। আদালত আরও জানায়, আবেদনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, যাদের ওপর ভারতীয় আদালতের কোনো রিট এখতিয়ার নেই। বেঞ্চ আবেদনকারীকে সতর্ক করে জানায়, এ ধরনের মামলা ‘জনস্বার্থ মামলা’র অপব্যবহার এবং এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। প্রয়োজনে ভারী জরিমানাও আরোপ করা হতে পারে বলে সতর্ক করেন বিচারপতিরা। এই মামলায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পক্ষে আদালতে হাজির হন ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতকে জানান, আবেদনে বিসিবি ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকেও পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। আদালতের আদেশে বলা হয়, ‘আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয়- এ কথা জানানো হলে আবেদনকারী তা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। ফলে আবেদনটি প্রত্যাহার হিসেবে খারিজ করা হলো।’