সহসাই চালু হচ্ছে না হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল

এফএনএস এক্সক্লুসিভ | প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:১৬ এএম
সহসাই চালু হচ্ছে না হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল

প্রস্তত হলেও সহসাই চালু হচ্ছে না হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল। বরং অলস বসে থাকা আরো দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বিমানবন্দরে নবনির্মিত থার্ড টার্মিনাল প্রায় এক বছর ধরে ‘চালুর জন্য প্রস্তুত’ অবস্থায় আছে। কিন্তু অপারেটর নিয়োগ দিতে না পারায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) টার্মিনালটি চালু করতে পারছে না। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চেষ্টা করেও চুক্তি করতে পারেনি টার্মিনালের অপারেটর হিসেবে জাপানের কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে। সর্বশেষ অতিসম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরবর্তী সরকার টার্মিনাল উদ্বোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে টার্মিনালের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে সময় লাগতে পারে ছয় থেকে আট মাস। ফলে টার্মিনাল পরিচালনার জন্য যে কোম্পানিকেই নিযুক্ত করা হোক তারা চুক্তির পর পরই টার্মিনালে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না। বরং থার্ড টার্মিনাল চালু হতে আরো এক বছর সময় লেগে যেতে পারে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সমপ্রসারণ প্রথম পর্যায় প্রকল্পের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন থার্ড টার্মিনাল গড়ে তোলা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২১ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। আর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে জাপানি কোম্পানি মিৎসুবিশি, স্যামসাং ও ফুজিতার সমন্বয়ে গঠিত এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ২০২০ সালের এপ্রিলে ওই প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। আর ২০২৩ সালের জুনে টার্মিনালের স্টিল স্ট্রাকচারের কাজ শেষ হয়। একই বছরের অক্টোবরে তৎকালীন সরকার টার্মিনালটি সফট ওপেনিং করে। ২০২৪ সালের অক্টোবর নাগাদ টার্মিনালটি পুরোদমে চালুর পরিকল্পনা ছিল।

সূত্র জানায়, জাপানের সরকারি ও বেসরকারি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়ামকে সরকার পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে টার্মিনালটি পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায়। ওই লক্ষ্যে ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের পিপিপি কর্তৃপক্ষ এবং বেবিচক কাজ করছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ওই কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বাংলাদেশ কোনো চুক্তি করতে পারেনি।

এদিকে এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, থার্ড টার্মিনাল চালুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। দরকষাকষি ও আলোচনা করা হয়েছে। কিনতু প্রাণান্ত চেষ্টা করেও প্রচেষ্টা সফল হয়নি। টার্মিনাল চালুর জন্য যে পদ্ধতিগত ও কারিগরি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সেগুলো সচল রাখার জন্য বর্তমানে কাজ করা হচ্ছে। পরবর্তী সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।