ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হওয়ার সরকারি হিসাব প্রকাশ করেছে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার। বুধবার (২১ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন। প্রথমবারের মতো প্রকাশিত এই সংখ্যাকে কেন্দ্র করে দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহিদ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় সাধারণ বেসামরিক বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরাও রয়েছেন। বাকি ৬৯০ জনকে সরকার ‘সন্ত্রাসী-দাঙ্গাকারী’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করেছে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী আকবর পৌরজামশিদিয়ান রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “যারা বিক্ষোভের নামে সন্ত্রাস, দাঙ্গা এবং সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, তাদের সন্ত্রাসী-দাঙ্গাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, “নিহতদের মধ্যে শহিদদের সংখ্যা অনেক বেশি, যা প্রমাণ করে সরকার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে।”
তবে সরকার ঘোষিত এই হিসাবের সঙ্গে একমত নয় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ৫৬০ জন নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ৪ হাজার ২৫১ জন বিক্ষোভকারী, ১৯৭ জন নিরাপত্তা কর্মী, ১৮ বছরের কম বয়সী ৩৫ জন শিশু এবং ৩৮ জন পথচারী রয়েছেন।
এর আগে রোববার (১৮ জানুয়ারি) ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তা বিক্ষোভে অন্তত ৫ হাজার জন নিহত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে এসব সংখ্যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অসহনীয় মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই তা দেশটির ৩১টি প্রদেশের শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইরানি কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়।
বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও ইরান সরকার তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি বলে জানিয়েছে এপি ও আলজাজিরা।