ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি এমনিতেই সাধারণ ছুটি থাকছে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় ভোট ঘিরে টানা চার দিনের বিরতি পাচ্ছেন অনেকেই। শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ছুটির পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই বৈঠকে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত করা হয়।
প্রেস সচিব জানান, “১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে, যা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। আজকের বৈঠকে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি এবং ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছুটি অনুমোদন করা হয়েছে। ফলে শ্রমিকরা টানা তিন দিন ছুটি পাবেন।”
তিনি আরও জানান, ওই বৈঠকে মোট ১৩টি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন সংশোধনের খসড়া, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ অধ্যাদেশ এবং বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশন আইন ২০২৬-এর নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, জুয়া প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬-এর খসড়াও অনুমোদিত হয়েছে। এই অধ্যাদেশে ১৯ ধরনের জুয়াকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং অপরাধ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সাজার বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১০ বছরের কারাদণ্ডের সুযোগ রাখা হয়েছে। ম্যাচ ফিক্সিংসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে এই আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ ২০২৬, বাংলাদেশ জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের প্রস্তাব এবং জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৬-এর খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট সংক্রান্ত খসড়াও অনুমোদনের কথা জানান প্রেস সচিব।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হবে। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে এই ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।