ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সরকারি খাল দখল প্রতিরোধে অবৈধভাবে নির্মিত কার্লভার্টের দেওয়াল ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিলেন ইউএনও মো. আবুবকর সরকার। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সরাইল-অরূয়াইল সড়ক সংলগ্ন উপজেলার চুন্টার ঘাগড়াজোর এলাকায় খা বাড়ির সামনের খালে নির্মিত দেওয়ালটি ভাঙ্গা হয়েছে। পানি নিস্কাশন ও জনস্বার্থে দখলদারদের কবল থেকে খালটি রক্ষার চেষ্টার জন্য ইউএনও কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’ সরাইল শাখার সদস্যরা। ইউএনও’র দফতর ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সরাইলের বিভিন্ন এলাকায় সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় সরকারি খাল দখল করা যেন নেশা ও রোগে পরিণত হয়েছে। এ কাজে প্রত্যেক এলাকায় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বেশ কিছু দিন পূর্বে সরাইল-অরূয়াইল সড়ক সংলগ্ন চুন্টা ইউনিয়নের ঘাগড়াজোর গ্রামের খা বাড়ির সামনের সরকারি খালের বড় অংশে মাটিতে সিসি ঢালাই দিয়ে দুই পাশে দেওয়াল নির্মাণ করেছে একটি চক্র। তাদের উদ্যেশ্য কার্লভার্ট নির্মাণ করে খালটি নিজেদের দখলে নেওয়া। অথচ এই খাল দিয়ে ৪-৫ গ্রামের পানি নিস্কাশন হয়ে আসছে যুগযুগ ধরে। বর্ষার সময় অরূয়াইল পাকশিমুল জয়ধরকান্দি তেলিকান্দিসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়তের নৌকা গুলি এই খাল দিয়ে যাতায়ত করে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার চেষ্টা করেন স্থানীয় লোকজন। সংশ্লিষ্ট লোকজন সেই যাত্রায় কাজটি বন্ধ করে দেন। বিষয়টি জেনে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সেখানে অভিযানে যান সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার। অভিযানকালে বিনা অনুমতিতে সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় সরকারি খাল দখলের চেষ্টার প্রমাণ পেয়ে তিনি দাঁড়িয়ে থেকে কার্লভার্টটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে নির্মাণকারীদের লোকজন ওই কার্লভার্টের দেওয়াল গুলি ভেঙ্গে দিয়েছেন। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, এই খালের পশ্চিম উত্তর পাশের একটি বড় অংশ গত কয়েক বছর আগে এভাবেই দখল করে এখন বাড়ির সাথে মিলিয়ে নিয়েছেন আরেকটি চক্র। চুন্টায় ভূমি অফিসের নাকের ডগায় বাজারে ও আশেপাশে সরকারি জায়গা দখলের প্রতিযোগিতা যুগযুগ ধরে চলমান। এখানের দুটি সরকারি খাস পুকুরও দখলদাররা কৌশলে ভোগ করে যাচ্ছে বছরের পর বছর। সবকিছু ম্যানেজ করেই ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা দখল বাণিজ্য করে যাচ্ছেন। ইউএনও মো. আবুবকর সরকার বলেন, সরকারি খাল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কোন ভাবেই বরদাশত্ করা হবে না। এই কার্লভার্টটির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।