গাজীপুর-৪, কাপাসিয়া আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান এর পক্ষে উপজেলার টোক ইউনিয়নের বাইপাস সংলগ্ন মাঠে বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার বিকালে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহ রিয়াজুল হান্নান। এসময় তিনি বলেন, ধানের শীষ বিজয়ী হলে সকল মতের সমান মর্যাদা নিশ্চিত হবে। কাপাসিয়ার সার্বিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। এ জনসভায় কাপাসিয়ার সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি ঐক্যবদ্ধ ও আধুনিক কাপাসিয়া গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলার টোক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবু সাঈদ মাহমুদুল হক বুলবুল এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রোকনের পরিচালনায় প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রাক্তন সভাপতি এম এ হাশেম। ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টোক ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বসির উদ্দিন বাসু, প্রবাসী বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলাম হান্নান প্রমুখ।
এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দের সাথে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, নির্বাচন প্রচারণা কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মাজহারুল হক, বিএনপির সিনিয়র নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম, বারিষাব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাওলানা কফিল উদ্দিন, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা গোলাম এমডি মঈন উদ্দিন রবিন, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিক হোসাইন, মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন শিশির প্রমুখ।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া প্রার্থনা করে বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনে সবাইকে নিয়ে আধুনিক ও মানবিক সমাজ গঠন করা হবে। একটি ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিরিহ মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে। তারা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম পালনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমান মা-বোনদের জান্নাত পাইয়ে দেয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। তাদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে বলেন, বিগত দিনে আমার পিতাকে আপনারা ভোট দিয়ে এমপি- মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তিনি আপনাদের রাষ্ট্রীয় আমানত যথাযথভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমাকে ভোট দিয়ে এমপি বানালে পিতার রেখে যাওয়া স্বপ্নের বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ। যে কোনো মূল্যে কাপাসিয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবো। উপস্থিত মা-বোনের প্রশ্নের জবাবে বলেন, অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হলেই সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তাই সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কার্যকর ভূমিকা রাখবো। বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। তাই বিএনপি সাধারণ মানুষের ভোটের দাবি রাখেন।
পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে যেতে দেয়নি। বিনা ভোটের সরকার দাবিদার বিগত দিনে এলাকার কোন উন্নয়ন করেনি। মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ সহ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল। ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় প্রথমবার দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর বিএনপির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাবার মধ্যদিয়ে দেশ দ্বিতীয় বার স্বাধীন হয়েছে।
মরহুম ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ্'র প্রতি এলাকার আপামর জনসাধারণের অগাধ আস্থা বিশ্বাস ছিলো। আপনাদের সাথে নিয়েই 'ফকির মজনু শাহ্ সেতু' সহ এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছিল। জীবদ্দশায় তিনি সকল কাজ করে যেতে পারেন নি। তাই আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজ গুলো সমাধান করবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের দলীয় নেতা কর্মীদের উপর দীর্ঘ ১৭ বছর হামলা, মামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলনে বিএনপিই নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা ঘোষণা করেছেন। তা বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। হান্নান শাহ পরিবার বংশ পরম্পরায় কাপাসিয়ার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতিতে কাপাসিয়ার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
শাহ রিয়াজুল হান্নান সবার কাছে দোয়া, ভোট প্রার্থনা এবং সহযোগিতা কামনা করেন। নিজ ইউনিয়নের সবাইকে দলমতের উর্ধ্বে উঠে কাপাসিয়ার সার্বিক উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। মাতৃভূমি ও জন্মভূমির প্রত্যেককে একজন কর্মী হিসাবে অন্যান্য এলাকায় গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করার দাবি জানান।
দল সরকার গঠন করলে কাপাসিয়ায় পরিবেশবান্ধব কলকারখানা স্থাপন, কৃষির আধুনিকায়ন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং মা-বোনদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মহিলাদের বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার সংখ্যা বাড়ানো, এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হবে। বড় বড় ব্যবসা কেন্দ্রের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ছোটখাটো পুঁজি খাটিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে সাবলম্বী হতে পারবেন। তাতে জায়গা জমির দাম বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষের শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা হবে। আগামী নির্বাচনে দলের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দদের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দল সরকার গঠন করলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন বলে আশ্বাস দেন।